সিলেটের মায়াময় ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (SOMCH) চতুর্থ তলার ওয়ার্ড নং ৪-এ গত রাত ১১ টার দিকে একটি রোগী ও তার সহায়কদের সঙ্গে ইন্টার্ন ডাক্তারদের মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী ইন্টার্ন ডাক্তারের ওপর শারীরিক আক্রমণ ঘটে। এই ঘটনার পর হাসপাতালের ইন্টার্নরা অনির্দিষ্টকাল কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
আক্রমণটি রাত ১১:০০ টার দিকে শুরু হয়, যখন রোগী ও তার পরিবারিক সদস্যরা ওয়ার্ডে উপস্থিত ছিলেন। রোগীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় উত্তেজনা বাড়ে এবং দ্রুতই শারীরিক ঝগড়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় এক মহিলা ইন্টার্ন ডাক্তারের ওপর হিংসাত্মক আচরণ করা হয়, যা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশও দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, আক্রমণকারী রোগী ও তার সহায়কদের হাসপাতালে থেকে সরিয়ে অন্য কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়।
ইন্টার্নদের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে তারা এই ঘটনার বর্ণনা “শর্মজনক আক্রমণ” হিসেবে উল্লেখ করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একজন মহিলা ইন্টার্ন ডাক্তারের ওপর এমন হিংসা ঘটানো, বিশেষ করে একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং উদ্বেগজনক।”
ইন্টার্নরা দাবি করে যে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তাত্ক্ষণিকভাবে দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তি প্রদান করা উচিত। তারা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং ইন্টার্ন ও জুনিয়র ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য স্থায়ী পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
এই দাবি অনুযায়ী, ইন্টার্নরা অনির্দিষ্টকাল কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যতক্ষণ না নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়। তারা জানায়, নিরাপদ পরিবেশ গড়ে না ওঠা পর্যন্ত রোগী সেবা প্রদান বন্ধ থাকবে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ড. বদরুল আমিন পরিস্থিতি সমাধানের জন্য ইন্টার্নদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা ইন্টার্নদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি এবং আশা করি শীঘ্রই তারা কাজ পুনরায় শুরু করবে।” এছাড়া, হাসপাতাল প্রশাসন এই ঘটনার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
আক্রমণের পর রোগীর পরিবার হাসপাতাল ত্যাগ করে এবং তাদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য নেওয়া যায়নি। রোগী ও তার সহায়কদের স্থানান্তরের পর হাসপাতালের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তরুণ ডাক্তারদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে আবারো উন্মোচিত করেছে। বিশেষ করে নার্স ও মহিলা ডাক্তারদের প্রতি হিংসা রোগী ও তাদের সঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যা সঠিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নীতির মাধ্যমে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, রোগী ও তাদের পরিবারিক সদস্যদের সঙ্গে স্পষ্ট যোগাযোগ বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রোটোকল তৈরি করা জরুরি। এছাড়া, ইন্টার্ন ও জুনিয়র ডাক্তারদের জন্য মানসিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা উচিত।
হাসপাতাল প্রশাসন ইতিমধ্যে নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং রোগী প্রবেশদ্বার ও ওয়ার্ডের মধ্যে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপনের কথা বিবেচনা করছে। তবে, ইন্টার্নদের দাবি অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজ বন্ধ রাখবে।
সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগও এই ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা দেশের স্বাস্থ্য নীতি বাস্তবায়নের একটি মৌলিক শর্ত।
এই পরিস্থিতি রোগী সেবা ও হাসপাতালের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই দ্রুত সমাধান খোঁজা জরুরি। ইন্টার্নদের কাজ বন্ধের ফলে রোগীর অপেক্ষা সময় বাড়তে পারে এবং জরুরি চিকিৎসা সেবায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
অবশেষে, রোগী ও তাদের সঙ্গীদের সঙ্গে সংলাপ বাড়ানো, নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা এবং হিংসা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ প্রদানই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের মূল চাবিকাঠি হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আপনার মতামত কী? হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ইন্টার্নদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?



