দাভাও সিটিতে, মাইন্ডানো দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত একটি ছোট কংক্রিট ঘরে ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যাকে আমরা ‘প্রিন্সেস’ নামে জানি, জাপানি ভাষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ঘরটি তিন ভাগে ভাগ হয়ে আছে; একটি বাঙ্ক বেডে তার মা, সৎপিতা, ছোট বোন এবং প্রিন্সেস একসাথে ঘুমায়, আর এক কোণায় ছোট এয়ার-কন্ডিশনারটি কেবল তার পড়াশোনার জন্য ঠাণ্ডা পরিবেশ নিশ্চিত করে। তার মা এই এয়ার-কন্ডিশনারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যাতে প্রিন্সেস জাপানি হিরাগানা শিখতে মনোযোগী হতে পারে।
প্রিন্সেসের পাশাপাশি ঘরের পাশের প্রতিবেশীর মেয়েটি ও একই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে। দুজনেই অনোডেরা ইউজার রান (OUR) পরিচালিত জাপানি ভাষা, সংস্কৃতি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি, যা একটি বড় জাপানি রেস্টুরেন্ট ও ফুড সার্ভিস কংগ্লোমারেটের শাখা এবং সাম্প্রতিককালে জাপানে কর্মী সরবরাহের জন্য মধ্যস্থতা সেবা শুরু করেছে। এই কোর্সের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা পাস করিয়ে জাপানে নার্সিং হোম ও রেস্টুরেন্টে কাজের ভিসা পাওয়া নিশ্চিত করা।
প্রিন্সেসের জন্য এই স্বপ্ন এখন বাস্তবের কাছাকাছি। ছয় মাসের ভাষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষে, তিনি জুমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জাপানি ভাষায় পরিচালিত নিয়োগকর্তা সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণ হন এবং কাজের ভিসা পেয়ে যান। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পুরো পরিবারকে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তার মা গ্রামাঞ্চলের বড় বাড়ি ছেড়ে দাভাও সিটির এই ছোট অ্যাপার্টমেন্টে চলে এসেছেন, যাতে প্রিন্সেস OUR ট্রেনিং একাডেমিতে ভর্তি হতে পারে। OUR ট্রেনিং একাডেমি ফিলিপাইনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি প্রাইভেট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যা জাপানে আইনগতভাবে সুরক্ষিত দীর্ঘমেয়াদী চাকরির সুযোগ প্রদান করে।
প্রিন্সেসের সৎপিতা ও ছোট বোনও পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিচ্ছেন। সৎপিতা বাড়ির ছোট জায়গায় কাজের জন্য অতিরিক্ত আয় করার উপায় খুঁজে বের করছেন, আর ছোট বোনের শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত সময় দিচ্ছেন। পরিবারটি একসাথে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য একত্রে কাজ করছে, যেখানে প্রত্যেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা, যা ভিসা পাওয়ার শেষ বাধা, তার প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। শিক্ষার্থীরা হিরাগানা, কাটাকানা এবং মৌলিক ক্যানজি শিখে, পাশাপাশি জাপানি রেস্টুরেন্ট ও নার্সিং হোমে প্রয়োজনীয় কাজের দক্ষতা অর্জন করে। OUR এর প্রশিক্ষকরা ফিলিপাইনের স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সাজিয়ে দেন, যাতে শিক্ষার্থীরা জাপানের কর্মস্থলে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।
প্রিন্সেসের সফলতা অন্য তরুণীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করছে। দাভাও ও আশেপাশের এলাকায় অনেক পরিবার এই ধরনের প্রশিক্ষণকে ভবিষ্যৎ গড়ার একটি পথ হিসেবে দেখছে। জাপানের শ্রম বাজারে তরুণ কর্মীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ফিলিপাইনের যুবক-যুবতিগণ বিদেশে কাজের সুযোগের দিকে নজর দিচ্ছেন।
এই ধরনের প্রশিক্ষণ ও ভিসা প্রক্রিয়ার সাফল্য নিশ্চিত করতে পরিবারের সমর্থন, আর্থিক ত্যাগ এবং শিক্ষার প্রতি দৃঢ় মনোভাব প্রয়োজন। প্রিন্সেসের গল্প থেকে দেখা যায়, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে বিদেশে কাজের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
আপনার যদি বিদেশে কাজের স্বপ্ন থাকে, তবে প্রথমে আপনার পরিবারের সমর্থন ও আর্থিক পরিকল্পনা ঠিক করুন, এবং স্বীকৃত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দিন।



