খাগড়াছড়ি জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দলের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমার নাম ব্যবহার করা হলেও তার স্বাক্ষর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ঐ বিবৃতিতে দলটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা (তারু) জেএসএসে যোগদান করেছেন বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় শ্যামল কান্তি চাকমা এবং পূর্বের সাধারণ সম্পাদক মিটন চাকমা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং দলের কর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণে লিপ্ত ছিলেন, ফলে তারা ২০‑২৫ জন অনুগত সদস্যের সঙ্গে খাগড়াছড়ি ত্যাগ করে সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতির আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া দলটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা গঠনতন্ত্রের বাইরে একটি পদক্ষেপ বলে বিবৃত করা হয়।
শুক্রবারের এই তথ্যের পর, শনিবার সকালে দলীয় কার্যালয়, মধুপুর বাজারে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অমল কান্তি চাকমা, যিনি সরাসরি মিডিয়াকে জানিয়ে দেন যে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি ভুল এবং কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে নয়। তিনি বলেন, শ্যামল কান্তি চাকমা ও মিটন চাকমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও শোষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অমল কান্তি চাকমা আরও জানান, শ্যামল কান্তি চাকমা ও তার অনুগত সদস্যরা সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতির কাছে আশ্রয় নিয়েছেন, তবে তা দলের গঠন বা কার্যক্রমের কোনো পরিবর্তন নির্দেশ করে না। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিটি “বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর” এবং এতে দলটি বিলুপ্ত করার কোনো বৈধ ঘোষণা নেই।
বিবৃতির বৈধতা সম্পর্কে অমল কান্তি চাকমা জোর দেন যে, কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্য, শ্যামল ও মিটন ব্যতীত, বর্তমানে এখনও খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘোষণা কেন্দ্রীয় কমিটির সমগ্র সম্মতি ছাড়া করা হলে তা “অবান্তর” এবং দলের স্বার্থের বিরোধী।
দলটি এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিকের কার্যক্রম পূর্বের মতোই চালিয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেন। তিনি যোগ করেন, দলের গঠন ও কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, দলের সহসভাপতি সমীরণ চাকমা (চারমিং) এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই সিদ্ধান্তটি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বজায় রাখতে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে।
শ্রোতাদের জানানো হয় যে, শ্যামল কান্তি চাকমা (তারু) এর মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে সেই মুহূর্তে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। দলটি ভবিষ্যতে সকল সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিকের অভ্যন্তরীণ বিরোধ যদি সমাধান না হয়, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে দলের প্রভাব কমে যেতে পারে। তবে বর্তমান ঘোষণার প্রত্যাখ্যান এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিযুক্তি দলকে পুনরায় একত্রিত করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



