28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাকোর্টনি ওয়ালশ জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বোলিং পরামর্শক হিসেবে যোগদান

কোর্টনি ওয়ালশ জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বোলিং পরামর্শক হিসেবে যোগদান

বিশ্বের শীর্ষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে দল এখন কোর্টনি ওয়ালশকে বোলিং পরামর্শক হিসেবে পেতে পারে। ওয়ালশ, যিনি ২০১৯ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব শেষ করে, এখন জিম্বাবুয়ের পুরুষ দলের সঙ্গে কাজ করবেন। এই পদক্ষেপটি গিভমোর মাকোনি, জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দলের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে নেওয়া কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কোর্টনি ওয়ালশের ক্রিকেট ক্যারিয়ার টেস্ট ইতিহাসে ৫০০ উইকেটের প্রথম বোলার হিসেবে শুরু হয়। তিনি ১৩২টি টেস্ট ম্যাচে ৫১৯টি উইকেট এবং ২০৫টি ওডিআইতে ২২৭টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা তাকে সর্বকালের অন্যতম সফল পেসার করে তুলেছে। তার বোলিং জুটি কার্টলি অ্যামব্রোসের সঙ্গে টেস্টের স্বর্ণযুগে গড়ে উঠেছিল, যদিও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্ম তার ক্যারিয়ারের শেষের দিকে।

খেলা শেষ করার পর ওয়ালশের ক্রিকেটে নানা ভূমিকা দেখা যায়। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরুষ জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন, এরপর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ দল ২০১৯ টি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেয়, তবে টুর্নামেন্টের পর তার মেয়াদ শেষ হয়।

বছর পর বছর, ওয়ালশের কোচিং যাত্রা অব্যাহত থাকে। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ের মহিলা দলের টেকনিক্যাল পরামর্শকের পদে নিযুক্ত হন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন শর্তে দলকে গঠন ও উন্নয়নের দক্ষতা প্রদান করেছে, যা এখন জিম্বাবুয়ের পুরুষ দলের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

গিভমোর মাকোনি জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কথা বলার সময় উল্লেখ করেন, “বিশ্বমঞ্চে সফল হতে হলে এমন একজন কোচের দরকার, যিনি জানেন কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। কোর্টনির জ্ঞান ও পেশাদারিত্ব আমাদের বোলিং রসদকে সমৃদ্ধ করবে এবং আসন্ন প্রতিযোগিতার জন্য দলকে প্রস্তুত করবে।” এই মন্তব্যে তিনি ওয়ালশের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও মেন্টরশিপের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

জিম্বাবুয়ে দল ‘বি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান এবং সহ-স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা রয়েছে। গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচগুলো কলম্বো ও পল্লেকেলে অনুষ্ঠিত হবে, যা দলকে উষ্ণ আবহাওয়া ও ভিন্ন পিচ শর্তে পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। পূর্বে বাছাইপর্বে বাদ পড়া জিম্বাবুয়ে এবার বিশ্বকাপে ফিরে এসে নিজের অবস্থান পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ওয়ালশের যোগদানের ফলে জিম্বাবুয়ের বোলিং ইউনিটে নতুন কৌশল ও বিশ্লেষণ যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে টেস্ট ও ওডিআইতে অর্জিত জ্ঞান, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কীভাবে প্রয়োগ করা যায় তা নিয়ে দলকে নির্দেশনা দেবে। এছাড়া, তার পূর্বের কোচিং দায়িত্বে দেখা নেতৃত্বের গুণাবলি জিম্বাবুয়ের তরুণ বোলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে।

বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, জিম্বাবুয়ের প্রথম ম্যাচ হবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, যা দলকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি করে ত্বরিত মানসিক প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করবে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আয়ারল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া দলকে বিভিন্ন শর্তে খেলার অভিজ্ঞতা দেবে, যা গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রসর হতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমন্বিত ম্যাচটি হোম গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় সমর্থকদের উত্সাহ দলকে অতিরিক্ত শক্তি যোগাবে।

সারসংক্ষেপে, কোর্টনি ওয়ালশের বোলিং পরামর্শক হিসেবে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে অংশগ্রহণ দলকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। গিভমোর মাকোনির আশাবাদী মন্তব্য এবং দলের গ্রুপে থাকা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া এই পদক্ষেপের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জিম্বাবুয়ের এই নতুন অধ্যায়ে ফলাফল কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments