ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার অনুষ্ঠিত সাফা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসান দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত পনেরো বছর ধরে হিসাবরক্ষণের জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল পরিমাণে অর্থ পাচার ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই মন্তব্যের পটভূমিতে দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠে।
কনফারেন্সটি আন্তর্জাতিক নীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেকসই প্রতিবেদনের সংযোগস্থল হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশীয় ও বিদেশি নীতিনির্ধারক, একাডেমিক এবং ব্যবসায়িক নেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে তৌহিদ হোসান দেশের আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, হিসাবরক্ষণের জালিয়াতি মূলত সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার আর্থিক রেকর্ডে গোপন পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রথা দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে এবং জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় করে। তৌহিদ হোসান এই বিষয়টি তুলে ধরে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন।
পনেরো বছরের মধ্যে ঘটিত এই আর্থিক অনিয়মের পরিমাণকে তিনি বিশাল বলে উল্লেখ করেন, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের লুটপাটের ফলে দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রয়োজনীয় তহবিলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে, দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক কল্যাণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
তৌহিদ হোসানের মতে, আগামী প্রজন্মের পেশাদাররা সততা, জবাবদিহিতা এবং উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে আর্থিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি তরুণ পেশাজীবীদের ভূমিকা তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সততা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও নৈতিক মানদণ্ডের সংমিশ্রণই দেশের আর্থিক কাঠামোকে মজবুত করবে। তৌহিদ হোসান এই দৃষ্টিকোণ থেকে নৈতিক এআই ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
অধিকন্তু, তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তৌহিদ হোসান উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি আশাবাদী যে, সমন্বিত প্রচেষ্টা দিয়ে অঞ্চলীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা যাবে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে তিনি উল্লেখ করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমন্বয় প্রয়োজন। তৌহিদ হোসান বিশ্বাস করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান দ্রুত হবে।
কনফারেন্সের মূল থিম ‘নেক্সট জেনারেশন প্রফেশনালস কনভার্জিং এথিক্যাল এআই অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং’ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। এই থিমের মাধ্যমে প্রযুক্তি, নীতি এবং টেকসই উন্নয়নের সংযোগস্থল তৈরি করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তৌহিদ হোসান এই থিমকে দেশের আর্থিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন।
সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা এই থিমের আলোকে নৈতিক এআই ব্যবহারের নীতি, টেকসই প্রতিবেদন পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তৌহিদ হোসান আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সংলাপ দেশের আর্থিক নীতি গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগাবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তৌহিদ হোসানের মন্তব্য দেশের আর্থিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা তৈরি করে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণে অগ্রসর হতে হবে। এই বক্তব্যের ফলে নীতি নির্ধারক ও পার্টি নেতাদের মধ্যে আর্থিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে অনুমান করা যায়।
শেষে, তৌহিদ হোসান উল্লেখ করেন, আর্থিক দুর্নীতি নির্মূলের জন্য জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরে সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি আশাবাদী যে, নতুন প্রজন্মের পেশাজীবীরা নৈতিক মানদণ্ড মেনে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে। এভাবে, দেশের আর্থিক ভবিষ্যৎকে স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।



