ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি বলছেন, উপযুক্ত সময়ে তিনি দেশের শীর্ষে দাঁড়িয়ে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হবেন এবং ভেনেজুয়েলাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ ভূমিতে রূপান্তরিত করার মিশন চালিয়ে যাবেন।
মাচাদো এই সাক্ষাতে উল্লেখ করেন, তার লক্ষ্য দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা উন্নত করা এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নেতৃত্বের জন্য জনগণের সমর্থন বাড়বে। তিনি নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে দেশের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যতে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতের সময় মাচাদো ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দেন, যা তিনি ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে উপস্থাপন করেন। পদক উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তিনি দু’দেশের সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
একই মাসের ৩ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে গিয়ে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করে। এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
ট্রাম্প মাচাদোকে নতুন নেতা হিসেবে গ্রহণ না করার কারণ হিসেবে তার পর্যাপ্ত জনসমর্থনের অভাব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাচাদোর তুলনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করা বেশি উপযোগী, কারণ রদ্রিগেজের রাজনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি স্বীকৃতি রয়েছে।
ডেলসি রদ্রিগেজ ট্রাম্পের নির্দেশে সিআইএ পরিচালকের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক করেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও যোগাযোগ বাড়ানো, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধান এবং ভেনেজুয়েলা যেন কোনো বৈরীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল না হয়ে ওঠে তা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্প রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার পেছনে ২০ বছরেরও বেশি পুরনো ইরাক অভিযানের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইরাকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংসের ফলে বিদ্রোহের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত আইএসআইএসের উত্থান ঘটে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে তিনি ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
মাচাদোর নেতৃত্বের অঙ্গীকার এবং ট্রাম্পের কূটনৈতিক পদক্ষেপ উভয়ই ভেনেজুয়েলার আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। মাচাদো যদি জনপ্রিয় সমর্থন অর্জন করতে পারেন, তবে তিনি প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের শিরোপা জিততে পারেন; অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেতে পারা রদ্রিগেজের সম্ভাবনা ও তার নীতি-নির্ধারণের দিকও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ঘটনাগুলি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি এবং আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপের জটিল সম্পর্ককে পুনরায় উন্মোচন করেছে, যা দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ধাপের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



