বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জাই) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার দুপুর ১২টায় জরুরি বৈঠকের পরে জানালেন, ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও দশটি জোটের দল শেষ পর্যন্ত তাদের অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করবে।
বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, একাদশ দলের সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও, ইসলামী আন্দোলনের জন্য নির্ধারিত আসনগুলো এখনও ফাঁকা রয়েছে। এ কারণে, জোটের দশটি দল শেষ পর্যন্ত এই আসনগুলোতে তাদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করবে।
ইসলামী আন্দোলন যদি শেষ পর্যন্ত জোটে যোগ না দেয়, তবে ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনে প্রার্থী নির্ধারণের কাজটি দলগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত লিঁয়াজো কমিটি সম্পন্ন করবে, জুবায়ের বলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “ইসলামী আন্দোলন যদি শেষমেশ না‑ই আসে, তবে ফাঁকা থাকা আসনগুলোতে নিজেদের প্রার্থী দেবার বিষয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এই কাজটি ১০ দলের লিঁয়াজো কমিটি করবে।”
বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য জামায়াতের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। জোটের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসলামী আন্দোলনের জোট থেকে প্রস্থান ঘোষণার পর, জামায়াতের সর্বোচ্চ ফোরাম জরুরি বৈঠক ডেকে নেয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল জোটের সমন্বয় বজায় রাখা এবং নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করা।
বৈঠকের তৎক্ষণাত্ সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের জোটের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলনের আসনগুলো এখনও ফাঁকা, তাই দশ দল শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য অপেক্ষা করবে।”
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার ১০ দলের শীর্ষ নেতারা ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দেবার ঘোষণা দেন, একই সঙ্গে ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইসলামী আন্দোলনের অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা ছিল।
শুরুতে নির্ধারিত ২৫৩টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর, অবশিষ্ট ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়, যাতে ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের জন্য জায়গা রাখা যায়। জোটের এই কৌশলকে সমর্থনকারী দলগুলো এখন লিঁয়াজো কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে।
লিঁয়াজো কমিটি, যা দশটি জোটের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত, ফাঁকা আসনের জন্য প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্বাচনী তালিকায় নতুন প্রার্থীর নাম যুক্ত হবে।
এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, জোটের সমগ্র প্রার্থী তালিকা সম্পূর্ণ হবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার জন্য প্রস্তুত হবে। জোটের নেতৃত্ব এই মুহূর্তে নির্বাচনের পূর্বে সকল সম্ভাব্য বিকল্প বিবেচনা করে সর্বোচ্চ সমন্বয় বজায় রাখতে চায়।
সারসংক্ষেপে, ইসলামী আন্দোলনের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত থাকলেও, জামায়াত ও তার জোটের দশটি দল শেষ পর্যন্ত তাদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করবে এবং ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসনের জন্য লিঁয়াজো কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী কৌশল পুনর্গঠন ও প্রার্থী তালিকা সম্পূর্ণ হবে।



