ঢাকা শহরে আজ সকাল ১০:১৫টায় দেশের প্রথম মিডিয়া কনভেনশন উদ্বোধন করা হয়। “মিডিয়া কনভেনশন ২০২৬” শিরোনামে এই সমাবেশটি স্বাধীনতা, প্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আক্রমণকে প্রতিবাদ করার লক্ষ্যে আয়োজিত। কনভেনশনের সূচনা কৃশিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ কমপ্লেক্সের অডিটোরিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে, একটি ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা হয়।
এই সমাবেশটি নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (NOAB) এবং এডিটর্স কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উভয় সংস্থা একত্রে উল্লেখ করেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক নীতি ও প্রকাশের স্বাধীনতা ধারাবাহিকভাবে হুমকির মুখে রয়েছে, বিশেষ করে গোষ্ঠীমূলক সহিংসতার মাধ্যমে। এ ধরনের ঘটনা প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
কনভেনশনের কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণতান্ত্রিক স্থান রক্ষা করা এবং মিডিয়া কর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণ করা নিয়ে আলোচনা নির্ধারিত হয়েছে। এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং সাহসী সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে।
অনুষ্ঠানে টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সমিতি, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোম্যাটিক কোরেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন।
ঢাকা বাইরে থেকে আসা সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক, আমন্ত্রিত মিডিয়া পেশাজীবী এবং কলামিস্টরাও এই সমাবেশে যোগদান করেছেন। তাদের উপস্থিতি মিডিয়া ক্ষেত্রের বিস্তৃত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয় এবং একতাবদ্ধ কণ্ঠস্বর গঠনে সহায়তা করে।
সমাবেশের মূল লক্ষ্য হল স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতার পক্ষে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করা। অংশগ্রহণকারীরা একত্রে প্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা এবং পেশাগত অধিকার সংরক্ষণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে এই ধরনের সমাবেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে কাজ করে এবং ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে মিডিয়ার ভূমিকা শক্তিশালী করতে পারে। কনভেনশনের পরবর্তী ধাপে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত ও নীতিগত কাঠামো উন্নয়ন করা পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মিডিয়া কনভেনশন ২০২৬-এর উদ্বোধন দেশের সাংবাদিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ চেতনা এবং স্বাধীনতা রক্ষার সংকল্পকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



