ইসলামী বক্তা ও কুষ্টিয়া‑৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুফতি আমির হামজা, ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার রাতের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে প্রকাশ করেছেন যে, তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি করা ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করছেন।
হামজা উল্লেখ করেন, ঐ মন্তব্যটি ২০২৩ সালে করা হয়েছিল এবং সেই সময়ই তিনি প্রথমবারের মতো অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এখন পুনরায় ঐ মন্তব্যের পুনরুত্থান ও রাজনৈতিক ব্যবহারকে লক্ষ্য করে তিনি আবারও ক্ষমা চেয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, কোকোর নাম উল্লেখ করে যে উদাহরণটি দিয়েছিলেন, তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, কোনো বিষয় স্পষ্ট করতে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করার সময় তিনি অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার করে ভুল পথে গিয়েছিলেন, ফলে কোকোর প্রতি আঘাতকারী মন্তব্যের রূপ নেয়।
এছাড়াও, হামজা অভিযোগ করেন যে কিছু রাজনৈতিক দলীয় কর্মী পুরোনো মন্তব্যকে নতুন করে তুলে ধরে নির্বাচনী সময়ে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের কৌশল কেবলমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনের জন্য নয়, বরং নিজের দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন মরহুম ব্যক্তির প্রতি সম্মান না দেখিয়ে কাজ করছে।
হামজা পোস্টের শেষ অংশে কোকোর আত্মার শান্তি ও মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কোকোকে জান্নাতুল ফেরদৌসের অধিকারী করুন। তিনি সকলকে আহ্বান জানান, এই ঘটনার প্রকৃত দায়িত্ব কার ওপর, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে।
এই প্রকাশের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট। কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী হিসেবে হামজা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন, যেখানে বিরোধী দলগুলো তার পূর্বের মন্তব্যকে পুনরায় তুলে ধরতে পারে। আরাফাত কোকো, যিনি ২০২২ সালে ৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, তার পরিবার ও সমর্থকরা এই মন্তব্যকে আঘাতজনক বলে বিবেচনা করে।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ই কোকোর স্মৃতিকে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছে, তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা এই বিষয়কে ভোটের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। হামজার পুনরায় দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছেন।
ভবিষ্যতে, এই ঘটনার ফলে কুষ্টিয়া-৩ আসনের নির্বাচনী গতি পরিবর্তিত হতে পারে। বিরোধী দলগুলো হামজার অতীত মন্তব্যকে পুনরায় তুলে ধরতে পারে, যা ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তার প্রার্থীর ক্ষমা চাওয়ার প্রচেষ্টা দিয়ে সমর্থকদের কাছ থেকে সমর্থন বজায় রাখতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এমন ধরনের বিতর্ক নির্বাচনী সময়ে প্রায়ই দেখা যায়, যেখানে ব্যক্তিগত মন্তব্যকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে, কোকোর পরিবার ও সমর্থকরা এই ধরনের মন্তব্যকে অগ্রাহ্য না করে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আরও সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা দাবি করতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, আমির হামজা ফেসবুকে প্রকাশিত পোস্টে কোকোর প্রতি করা ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যের জন্য পুনরায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন, মন্তব্যের ভুল স্বীকার করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরোনো বক্তব্যকে পুনরায় ব্যবহার করা ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছেন। তিনি কোকোর আত্মার শান্তি কামনা করে শেষ করেছেন, এবং সকলকে এই ঘটনার প্রকৃত দায়িত্ব নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়েছেন।



