সিলেটের ওসমানিনগর উপজেলায় আজ প্রাতঃকালীন সময়ে ঢাকা‑সিলেট হাইওয়েতে তিনটি বাসের সংঘর্ষে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে স্থানীয় পুলিশ অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া জানান, নিহত দুজনই শ্যামলী পারিবহন বাসের চালক ও সহকারী ছিলেন।
ঘটনা ঘটেছে সকাল প্রায় ৬:৩০ টায় দায়ামির এলাকার কাছাকাছি, যেখানে ঢাকা থেকে আসা উচ্চগতির এনা পারিবহন বাসটি শ্যামলী পারিবহন বাসের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে ধাক্কা খায়। শ্যামলী বাসটি সিলেটের দিকে চলছিল এবং দায়ামির মাদ্রাসার সামনে দুটো গাড়ি একসাথে ধাক্কা খাওয়ার ফলে সংঘর্ষটি ঘটেছে। এনা বাসের পিছনে থাকা আরেকটি বাসও এই ধাক্কায় জড়িয়ে পড়ে।
ধাক্কা মারার পর এনা ও শ্যামলী দুটো বাসের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্যামলী বাসের চালক ও সহকারী দুজনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়ে যান। অন্যদিকে, দুটো বাসে মোট দশজনের বেশি যাত্রী আঘাত পেয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আহতদের অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, আহতদের মধ্যে কিছু গুরুতর আঘাতের শিকার, আর কিছু তুলনামূলকভাবে হালকা আঘাতের। আহতদের দ্রুত সিলেটের এম.এ.জি. ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছু রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছে, তবে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর তাজপুর ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। জরুরি সেবা দলগুলো ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আহতদের নিরাপদে বের করে নিয়ে যায় এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য সাময়িকভাবে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়।
ধাক্কা ঘটার পর হাইওয়ে জুড়ে দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়। কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত গাড়ি গুলো থেমে থাকে, ফলে যাত্রী ও চালকদের জন্য বড় অসুবিধা দেখা দেয়। পুলিশ দল ট্রাফিক পুনরায় চালু করার জন্য বিকল্প রুট নির্দেশনা দেয় এবং গাড়ি চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যায়।
অধিক তদন্তের জন্য ওসমানিনগর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. মোরশেদুল হাসান ভূঁইয়া জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। গাড়ির গতি, ব্রেকের অবস্থা এবং চালকদের আচরণসহ বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য রেকর্ডেড ভিডিও, গাড়ির রেকর্ডার এবং সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রোড সেফটি ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, বাস চালকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গতি সীমা মেনে চলার নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।



