শুক্রবার সকাল দশটায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ উদ্বোধন হয়। সংবাদপত্রের মালিকদের সমিতি নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব ও সরকারের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে বিশদ বক্তব্য রাখেন।
আনাম জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারী ক্ষমতার মুখে সত্যিকারের স্বতন্ত্র মিডিয়া ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা সরাসরি এবং নির্ভীকভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দলীয় লোকজন, ব্যুরোক্রেটিক কাঠামো ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রায়ই স্বার্থপর দৃষ্টিকোণ থেকে তথ্যকে বিকৃত করে, যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকতা একমাত্র সৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
তিনি যুক্তি দেন যে, যদি সরকার স্বাধীন মিডিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখে এবং উদারমনা দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, তবে তা তার নিজের জন্যই সর্বোচ্চ লাভ বয়ে আনবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, ফলে নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়া জনগণের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
আলোচনার সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারী প্রকল্প, বাজেট এবং নীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রায়শই স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে আসে। তদন্তমূলক রিপোর্টের মাধ্যমে বড় বড় আর্থিক অমিল, দুর্নীতি এবং অনিয়ম প্রকাশ পায়, যা অন্যথায় অন্ধকারে থাকত।
মহফুজ আনাম জিজ্ঞাসা করেন, কোনো সরকারী কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা জনগণ গ্রহণ করছে কিনা, নাকি তা দুর্নীতির জালে আটকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এবং তা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা স্বাধীন মিডিয়ার দায়িত্ব।
তিনি তীব্রভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকার যে বিশাল বাজেট পরিচালনা করে, তা শেষ পর্যন্ত করদাতার সম্পদ। এই অর্থের ব্যবহার যদি স্বচ্ছ না হয়, তবে তা জনগণের অধিকার লঙ্ঘন। স্বাধীন সাংবাদিকতা এই তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তদারকি করবে এবং প্রয়োজনীয় সমালোচনা প্রদান করবে।
আনাম স্বীকার করেন যে, যদি কোনো উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের কল্যাণে সঠিকভাবে কাজ করে, তবে তা প্রশংসার যোগ্য। তবে যখন সেই প্রকল্প দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তখনই স্বাধীন মিডিয়া



