জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করতে চলেছিল, তবে দেশের পার্লামেন্টীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে interim সরকার সফরটি আপাতত স্থগিত করেছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল এলডিসি (কম উন্নত দেশ) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি ও অবস্থান পর্যালোচনা করা এবং ২১ জানুয়ারি একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা।
দলটির নেতৃত্বে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমা। তাদের সফরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা, দেশীয় এলডিসি-উত্তরণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন যাচাই করা ছিল পরিকল্পনা।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে interim সরকার সফরটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রতিনিধিদলীর সফর পুনরায় নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, “জাতিসংঘের দল এখনো আসবে না, তবে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন আমরা পেয়ে যাব। এরপর প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোবে।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সফর না হলেও মূল্যায়ন রিপোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এলডিসি থেকে উত্তরণে ঘাটতি তুলে ধরে সরকারকে গ্রেডিং প্রক্রিয়া বিলম্বের দাবি জানাচ্ছে। তারা উল্লেখ করে, যদি বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যায়, WTO-এর আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা হারিয়ে যাবে।
শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। এই সম্ভাব্য ক্ষতি দেশের গার্মেন্টস ও অন্যান্য রপ্তানি খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এলডিসি-উত্তরণ নীতি ইতিবাচক নয়, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশে কোনো একটিতে বিরোধিতা হলে তা সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য হয়। ফলে একাধিক বাজারে প্রবেশের শর্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২৪ আগস্ট, ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি গোষ্ঠী একত্রে সংবাদ সম্মেলন করে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানায়।
সরকার ইতিমধ্যে জাতিসংঘকে এই দাবির কথা জানিয়ে দিয়েছে, তবে interim সরকার পর্যন্ত এলডিসি-উত্তরণে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পায়নি। লাওস ও নেপাল এখনও এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২৪ নভেম্বরের মধ্যে এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য রাখছে। এই সময়সীমা পূরণে সরকারকে আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে হবে।
সফরের স্থগিত হওয়া এবং নতুন তারিখের অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ সময়মতো গ্রেডিং না হলে বাণিজ্যিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি বাড়বে। সরকার ও জাতিসংঘের পরবর্তী আলোচনার ফলাফলই দেশের বাণিজ্য নীতি ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের পরপরই প্রতিনিধিদলীর সফর পুনরায় নির্ধারিত হলে এলডিসি-উত্তরণ প্রক্রিয়ার গতি বাড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত না হওয়ায় সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।



