মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) গত শুক্রবার একটি নোটিশ প্রকাশ করে, যেখানে মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকার কিছু দেশ এবং ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশে বিমান পরিচালনা সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সতর্কতা ৬০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এয়ারলাইনগুলোকে রুট পরিকল্পনা ও নেভিগেশন সিস্টেমে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
সতর্কতার আওতায় মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, নিকারাগুয়া, কোস্টা রিকা, পানামা এবং উপরে উল্লেখিত দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলির নির্দিষ্ট আকাশসীমা অন্তর্ভুক্ত। FAA বিশেষভাবে ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার কিছু অংশ এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সীমান্তবর্তী জোনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যেখানে সামরিক কার্যক্রমের তীব্রতা বাড়ার কথা জানানো হয়েছে।
এফএএর মতে, এই অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান এবং জিপিএস সংকেতের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বিমান চলাচলে অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জিপিএস জ্যামিং বা সিগন্যালের বিকৃতি ঘটলে নেভিগেশন সিস্টেমের নির্ভুলতা হ্রাস পায়, ফলে বিমান নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। তাই এয়ারলাইনগুলোকে বিকল্প রুট ব্যবহার এবং রিয়েল‑টাইম ন্যাভিগেশন আপডেটের দিকে মনোযোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক আক্রমণ, কিউবার প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত অঞ্চলকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। এইসব ঘটনার ফলে বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত মাসে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাঙ্কার বিমানের সঙ্গে মাঝআকাশে সংঘর্ষ এড়াতে ক্যারিবিয়ান দেশ কিউরাসাও থেকে নিউইয়র্কের পথে উড়ে যাওয়া জেটব্লু ফ্লাইট‑১১১২ জরুরি রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। সেই ঘটনা বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জিপিএস হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচন করে, যা এফএএর সতর্কতার পেছনে একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে কাজ করেছে।
৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করার পর, ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেন। পরের সপ্তাহে তিনি উল্লেখ করেন যে, মেক্সিকোর সরকার নয়, মাদক কার্টেলই দেশের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেগুলো দমন করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু করা হতে পারে। এই ধরনের প্রকাশনা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম এ ধরনের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় মাদক কার্টেল দমন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অভিবাসীর প্রবাহ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে এবং ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে শীতল করতে কূটনৈতিক সংলাপ বাড়ানোর গুরুত্বেও জোর দেন। শিনবাউমের মন্তব্যে দেখা যায় যে, মেক্সিকো উভয় দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সমন্বিত কৌশল অনুসরণ করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এই সময়ে মেক্সিকো ও অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সংযোগের ওপর আলোচনা চালিয়ে গেছেন। রুবিওর উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা কেবল বিমান চলাচল নয়, বরং বৃহত্তর কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এফএএর সতর্কতা অনুসারে, এয়ারলাইনগুলোকে রুট পুনর্বিবেচনা, জিপিএস সিগন্যালের স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য সামরিক কার্যক্রমের তথ্য রিয়েল‑টাইমে সংগ্রহ করতে হবে। সতর্কতা ৬০ দিন পর পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, তবে বর্তমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ধরনের সতর্কতা বিমান শিল্পে রুট পরিবর্তন, সময়সূচি সমন্বয় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত খরচের সম্ভাবনা তৈরি করে।



