লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় রয়েল ফুটবল একাডেমির দশ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে ইউএনও শামিমা আক্তার জাহানকে ‘আপু’ বলে সম্বোধন করা নিয়ে আয়োজকের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। অনুষ্ঠানটি রাত দশটার পরে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছিল, এবং শেষের দিকে সময়সূচি থেকে কিছুটা বিলম্বের কারণে উত্তেজনা বাড়ে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি সময়ের কাছাকাছি, প্রায় রাত বারোটা বাজে, শামিমা আক্তার জাহান একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠুকে ফোন করেন। ফোনে তিনি অনুষ্ঠানের অবস্থা সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মিঠু ব্যাখ্যা করেন যে রয়েল ফুটবল একাডেমির একজন সদস্যকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) সুযোগ পাওয়ায় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছিল, ফলে অনুষ্ঠান শেষ হতে কিছুটা দেরি হচ্ছে।
মিঠু যখন জানালেন যে সংবর্ধনা শেষ হলে অনুষ্ঠান তৎক্ষণাৎ শেষ হবে, তখন তিনি সম্মানসূচকভাবে ‘এখনি শেষ হয়ে যাবে, আপু’ বলে সম্বোধন করেন। শামিমা আক্তার জাহান এই সম্বোধন শুনে রাগপ্রকাশ করেন এবং ফোনে তীব্র সুরে প্রশ্ন তোলেন যে তিনি কি অনুমতি নিতে আসেননি, এবং এমন সময়ে অনুমতি নেওয়া সম্ভব কিনা।
শামিমা আক্তার জাহানের কথায় মিঠু জানান যে তিনি নিজে অনুমতি নিতে উপস্থিত ছিলেন না, তবে শামিমা আক্তার জাহানের কঠোর মনোভাবের ফলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর অনুষ্ঠানটি অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ হয়।
ঘটনা সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। কিছু মন্তব্যকারী সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনকে বাধ্যতামূলক বলে দাবি করেন, অন্যদিকে ‘আপু’ সম্বোধনকে সম্মানসূচক ও স্বাভাবিক বলে সমর্থন করেন। কিছু ব্যবহারকারী প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বেও জোর দেন।
রয়েল ফুটবল একাডেমির সহসভাপতি মেহেরবান মিঠু বলেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরি হওয়ায় তিনি বিনয়ের সঙ্গে ‘আপু’ বলেছিলেন, তবে শামিমা আক্তার জাহানের রাগের কারণ হবে তা তিনি অনুমান করেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ঘটনা উভয় পক্ষের জন্যই কষ্টের কারণ হয়েছে।
শামিমা আক্তার জাহান নিজে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘আপু’ সম্বোধনই রাগের মূল কারণ নয়; গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল, তাই তিনি তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দাবি করেন যে তার রাগের মূল বিষয় হল অনুষ্ঠানটির সময়সীমা অতিক্রম করা।
এই তর্কের ফলে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়নি, তবে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করছে। মিঠু ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতি এড়াতে অনুমতি প্রক্রিয়া ও সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন, আর শামিমা আক্তার জাহান অফিসিয়াল অনুমতি প্রক্রিয়ার কঠোরতা বজায় রাখতে ইচ্ছুক বলে জানান।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন যে এই ধরনের সম্বোধন সংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। যদিও ‘আপু’ শব্দটি সাধারণত সম্মানসূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে সরকারি প্রেক্ষাপটে তা কখনো কখনো অনানুষ্ঠানিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনা স্থানীয় সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে যোগাযোগের পদ্ধতি ও শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অনুষ্ঠানগুলিতে অনুমতি প্রক্রিয়া ও সম্বোধন সংক্রান্ত স্পষ্ট নীতি তৈরি করা হলে এ ধরনের তর্ক কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামাজিক মিডিয়ায় বিতর্কের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মিডিয়া সংস্থাগুলোও বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেছে, যা জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় আলোচনা ও সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সমঝোতা না হয়, তবে বিষয়টি উচ্চতর প্রশাসনিক স্তরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে।



