ময়মনসিংহ-১ নির্বাচনী এলাকার ধোবাউড়া উপজেলার গোষ্ঠগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিএনপি সমর্থক নজরুল ইসলাম (৪০) প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা পৌঁছানোর পরেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই দিনে, মৃতের পরিবার অভিযোগপত্র দাখিল করে, যার মাধ্যমে মামলা নথিভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নজরুল ইসলাম ছিলেন ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রাম থেকে, মফিজ উদ্দিনের পুত্র। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একজন সক্রিয় সমর্থক এবং সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতেন। তার মৃত্যু স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মৃতের পুত্র মো. সোলাইমান অভিযোগপত্রে মোট ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে, পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২২ জনকে আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যদিও তিনি একই নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করছিলেন।
ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগপত্র দাখিলের পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং দুইজন সন্দেহভাজন, আদম আলী (৫৪) ও দুলাল মিয়া (৫৩),কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ এমরান সালেহকে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পদে মনোনয়ন করা হয়েছিল। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে উত্তর জেলা বিএনপি সদস্য সালমান ওমর স্বাধীনভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ বিদ্যমান, যা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
সালমান ওমরের সমর্থক হিসেবে নজরুলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গতকাল, তার সমর্থক দলের একটি নির্বাচনী কার্যালয় এরশাদ বাজারে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের কিছুক্ষণ পর, বিকল্প প্রার্থীর সমর্থক দল, যার নেতৃত্বে আজহারুল ইসলাম ও মো. রোমান ছিলেন, সেখানে হঠাৎ আক্রমণ চালায়। আক্রমণের সময় নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তিনি কাছাকাছি থাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আক্রমণের সময় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত ছিলেন নজরুল, যাকে হঠাৎ করে ছুরিকায় আঘাত করা হয়। আহতকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিরা আক্রমণকারী দলের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র দাখিলের পর পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করেছে। বর্তমানে তদন্তের আওতায় অতিরিক্ত সাক্ষী ও ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে ঘটনার সঠিক ক্রম ও দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করা যায়।
ধোবাউড়া উপজেলায় এখনো কিছুটা শীতলতা বজায় আছে, তবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে আদালতে মামলার অগ্রগতি ও অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা নজরদারিতে থাকবে।



