আফ্রিকান ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল (CAF) সম্প্রতি আফ্রিকা কাপ (AFCON) প্রতিটি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হবে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই পরিবর্তনটি ২০ ডিসেম্বর CAFের সভাপতি প্যাট্রিস মটসেপের ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, তবে অনেক সদস্য ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তের পূর্বে কোনো পরামর্শ বা অনুমোদন পায়নি বলে অভিযোগ তুলেছে।
সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মূল কারণ হল CAFের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিযোগিতার ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন হলে ৫৪টি সদস্য সংস্থার সমষ্টিগত অনুমোদন প্রয়োজন। তবে CAFের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো এই বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে, দাবি করে যে এক্সিকিউটিভ কমিটি (ExCo) এর ছোট একটি গোষ্ঠি থেকেই প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছিল।
প্রাথমিক আলোচনাটি এক্সিকিউটিভ কমিটির সীমিত সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, পরে ২৪ জন সদস্যের বৃহত্তর এক্সিকিউটিভ কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত মরোক্কোতে অনুষ্ঠিত এই বছরের টুর্নামেন্টের শেষের আগে, অর্থাৎ রবিবারের শেষ ম্যাচের আগে, দুই‑বছরের চক্র থেকে চার‑বছরের চক্রে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়।
একজন ফেডারেশন প্রধান, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলেছেন, তিনি উল্লেখ করেন যে সিদ্ধান্তটি ইতিমধ্যে নেওয়া ছিল এবং মরোক্কোতে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, “যদি সাধারণ সভা হয় এবং সব সভাপতি ভোট দেন, তবে এই পরিবর্তন কখনোই পাশ হতো না।” এই মন্তব্যটি সদস্য ফেডারেশনগুলোর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।
গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চার‑বছরের চক্রের প্রস্তাবটি মটসেপের ঘোষণার প্রায় এক মাস আগে এক্সিকিউটিভ কমিটির কিছু সদস্যের মধ্যে উত্থাপিত হয়েছিল। তবে CAFের মুখপাত্র এই ধরনের কোনো সভা কখনো না হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
মরোক্কোতে গত মাসে একটি পূর্ণ এক্সিকিউটিভ কমিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা মটসেপের পরিবর্তন নিশ্চিত করার ঠিক এক দিন আগে হয়। এই সভায় ২৩টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর দুটি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। মরোক্কোর সভাপতি ফৌজি লেকজা, যিনি CAFের ভাইস‑প্রেসিডেন্টও, ক্যামেরনের সভাপতি স্যামুয়েল এতো’ এবং জিবুতি’র সভাপতি সুলেইমান হাসান ওয়াবেরি এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো মত প্রকাশ করেন।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে এবং এর ফলে আফ্রিকা কাপের আয়োজক দেশগুলোকে দুই‑বছরের মধ্যে একবারের বদলে চার‑বছরে একবার টুর্নামেন্টের দায়িত্ব নিতে হবে। এই শর্তটি ফেডারেশনগুলোর জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনবে।
বহু ফেডারেশন প্রধানের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ায় সাধারণ সভার মাধ্যমে সমষ্টিগত মতামত নেওয়া হয়নি, ফলে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে। অন্যদিকে, CAFের অভ্যন্তরীণ উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো দাবি করে যে এক্সিকিউটিভ কমিটির মধ্যে যথাযথ আলোচনা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।
এই বিতর্কের মধ্যে, আফ্রিকান ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠন ও টুর্নামেন্টের সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। সদস্য ফেডারেশনগুলো এখনো এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে পারে, অথবা পরবর্তী সাধারণ সভায় বিষয়টি পুনরায় আলোচনার দাবি করতে পারে।
CAFের সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল টুর্নামেন্টের ফ্রিকোয়েন্সিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি আফ্রিকান দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামো, স্পনসরশিপ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাই এই পরিবর্তনটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সদস্য দেশগুলো কীভাবে মানিয়ে নেবে, তা আগামী বছরগুলোতে স্পষ্ট হবে।
সর্বশেষে, CAFের চার‑বছরের চক্রের পরিকল্পনা ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে সদস্য ফেডারেশনগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত আপত্তি ও প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না পর্যন্ত এই বিষয়টি পুরোপুরি সমাধান হয়েছে বলে বলা কঠিন।



