যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন একটি “শান্তি পর্ষদ” গঠন ঘোষণা করেছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পর্ষদে যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মার্কো রুবিওকে প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্প নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং তিনি গাজা ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের সমাপ্তি লক্ষ করে ২০ ধাপের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করার কথা বলেছেন। এই পরিকল্পনা অনুসারে, গাজা অঞ্চলের প্রশাসনিক কাজকর্মের তত্ত্বাবধান এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সমন্বয় এই পর্ষদ করবে।
পর্ষদের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাবেক পার্লামেন্টারী মাইক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বাঙগা এবং মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল অন্তর্ভুক্ত। হোয়াইট হাউসের মতে, প্রতিটি সদস্যের গাজা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে।
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। তারা পর্ষদের নীতি নির্ধারণ ও কূটনৈতিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করেছেন।
বিলম্বিত গাজা পরিচালনার জন্য পূর্বে ১৫ সদস্যের একটি প্যালেস্টিনীয় টেকনোক্রেট কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার নাম “ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা” (এনসিএজি)। এই কমিটির প্রধান দায়িত্ব গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কাজ চালানো, এবং এর নেতৃত্বে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক ডেপুটি মিনিস্টার আলি শাথ রয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বুলগেরিয়ার প্রাক্তন রাজনীতিবিদ ও জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রাক্তন দূত নিকোলে ম্লাদেনভকে এনসিএজির সঙ্গে সমন্বয়কারী হিসেবে গাজা অঞ্চলে কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার দায়িত্ব হবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং পর্ষদের নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজা অঞ্চলে “ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স” (আইএসএফ) স্থাপন করা হবে। এই বাহিনীর কাজ হবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং পুনর্গঠন প্রকল্পের ত্বরান্বিত করা।
পর্ষদের গঠন ও সদস্যদের নাম প্রকাশের পর, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে বাকি সদস্যদের তালিকা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে প্রকাশ করা হবে। এই ধাপটি গাজার দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোগত ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাজা অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এই উদ্যোগের স্বীকৃতি ও সমর্থন প্রত্যাশিত। বিশেষ করে মানবিক সংকট মোকাবিলায় ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
এই পর্ষদ গঠনকে মধ্যপ্রাচ্য নীতির একটি নতুন দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয় ঘটবে। ভবিষ্যতে গাজার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার জন্য এই কাঠামো কীভাবে কাজ করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।
গাজা শান্তি পর্ষদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, গাজার নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা—যেমন পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবা—সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়।
পরিশেষে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ গাজার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধানে একটি নতুন পথপ্রদর্শক হতে পারে, তবে এর বাস্তবায়ন ও ফলাফল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল।



