ইরানে জাতীয় স্তরে প্রায় ২০০ ঘণ্টা চলা ইন্টারনেট বন্ধের পর, পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস আজ সকালে সংযোগের মাত্রা কিছুটা বাড়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে এই বৃদ্ধি খুবই সীমিত এবং সাধারণ ব্যবহার স্তরের প্রায় দুই শতাংশেই সীমাবদ্ধ, ফলে ব্যাপক পুনরুদ্ধারের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
নেটব্লকসের প্রকাশিত মেট্রিক্সে দেখা যায়, বন্ধের ২০০ ঘণ্টা পার হওয়ার পর সংযোগের হার সামান্য উপরে উঠেছে, তবে তা এখনও স্বাভাবিক অবস্থার একশো ভাগের দুই ভাগের কাছাকাছি। এই পরিসংখ্যান ইন্টারনেট সেবার সম্পূর্ণ পুনরায় চালু হওয়ার চিহ্ন নয়, বরং সীমিত কিছু নেটওয়ার্কের অস্থায়ী কাজের সূচক।
সংযোগের এই অল্পমাত্রা বৃদ্ধি সত্ত্বেও, নেটব্লকস উল্লেখ করেছে যে কোনো উল্লেখযোগ্য পুনরায় সংযোগের লক্ষণ দেখা যায়নি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও সেবা সীমাবদ্ধ, এবং ব্যবহারকারীরা পূর্বের মতো পূর্ণাঙ্গ অনলাইন কার্যক্রম চালাতে পারছেন না।
প্রতিবাদী আন্দোলনও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্রতা হারিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপের ফলে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, এবং বিশাল সংখ্যক নাগরিক গ্রেফতার হয়েছে। এই পরিস্থিতি প্রতিবাদকে ধীরগতিতে নিয়ে এসেছে, যদিও মূল দাবি এখনও অচল।
প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল ডিসেম্বর ২৮ তারিখে তেহরানের বাজারে ইন্টারনেট বন্ধের সঙ্গে, যা অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রকাশ ছিল। বাজারের বন্ধের পর দ্রুতই জনমত গড়ে ওঠে এবং প্রতিবাদে রূপ নেয়, যেখানে নাগরিকরা দারিদ্র্য, মুদ্রা অবমূল্যায়ন এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে সাড়া দেয়।
সময়ের সাথে সাথে এই অর্থনৈতিক প্রতিবাদ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে শাসনরত ধর্মীয় তান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরোধিতা করে, demonstrators একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের দাবি জানায়, যা শুধুমাত্র আর্থিক নয়, শাসনব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠনকে লক্ষ্য করে।
ইন্টারনেট সংযোগের সামান্য উন্নতি প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল যোগাযোগের অভাব তথ্যের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে, যা নাগরিকদের সংগঠন, আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের জন্য অপরিহার্য। সংযোগের এই অল্পমাত্রা বৃদ্ধি কিছু সেবা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে, তবে তা এখনও সীমিত।
নেটব্লকসের মতো স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলি ইন্টারনেট বন্ধের বাস্তব অবস্থা প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহ করে এবং সংযোগের স্তর, ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার এবং নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বচ্ছতা প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে।
ইন্টারনেট বন্ধের প্রযুক্তিগত পদ্ধতি সাধারণত আইএসপি-গুলোর ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ, ডিএনএস ফিল্টারিং এবং ব্যান্ডউইডথ সীমাবদ্ধতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এই ধরনের ব্যবস্থা দ্রুত বৃহৎ পরিসরে যোগাযোগ বন্ধ করতে সক্ষম, তবে একই সঙ্গে নেটওয়ার্কের কিছু অংশে অস্থায়ী লিকেজ ঘটতে পারে, যা নেটব্লকসের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে।
ডিজিটাল অধিকার সংরক্ষণে এই ধরনের পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং অত্যন্ত জরুরি। ইন্টারনেটের স্বল্পমেয়াদী পুনরুদ্ধার নাগরিকদের মৌলিক তথ্যপ্রাপ্তি এবং প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সহায়তা করে, যদিও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা এখনও দূরের লক্ষ্য।
ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সংযোগের অবস্থা কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা অনিশ্চিত, তবে নেটব্লকসের ডেটা ইঙ্গিত করে যে সরকারী দমনমূলক নীতি বজায় থাকলে সংযোগের স্তর দীর্ঘমেয়াদে সীমিত থাকবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর চাপ বাড়লে হয়তো কিছু শিথিলতা দেখা দিতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের সমান নয়।
সারসংক্ষেপে, ইরানে ২০০ ঘণ্টা চলা ইন্টারনেট বন্ধের পর সংযোগের সামান্য বৃদ্ধি প্রযুক্তিগত ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক, তবে বর্তমান পরিস্থিতি এখনও সীমিত এবং পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন নেই।



