মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেয়, তাতে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার সৈন্যসহ মোট ৮৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ আক্রমণ ৩ জানুয়ারি ঘটেছে এবং এতে ৪৭ ভেনেজুয়েলীয় সৈন্য, যার মধ্যে নয়জন নারী, নিহত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ২৩ জনের মৃত্যু জানানো হয়েছিল, তবে পরবর্তী আপডেটে সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ পর্যন্ত পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী মোট শিকারের সংখ্যা ৮৩ এ স্থিতিশীল হয়েছে।
শহরের রক্ষা দলে যুক্ত কিউবান সৈন্যের সংখ্যা ৩২, যারা মাদুরোর নিরাপত্তা দলে কাজ করছিল। বাকি শিকারের মধ্যে ভেনেজুয়েলীয় সৈন্য ও অজানা বেসামরিক নাগরিক অন্তর্ভুক্ত।
আক্রমণটি প্রথমে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা দিয়ে শুরু হয়, এরপর হেলিকপ্টার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে একটি কম্পাউন্ড থেকে গ্রেপ্তার করে। এই ধারাবাহিকতা পুরো অপারেশনকে একাধিক পর্যায়ে ভাগ করেছে।
বিশেষ বাহিনীর হেলিকপ্টার আক্রমণটি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়, যা মাদুরোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা গার্ডের বেশিরভাগই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ শোকের অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “বোলিভারিয়ান জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পুরুষ ও নারীরা সামরিক আগ্রাসনের মুখে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে।” এই বক্তব্যটি শিবিরে মৃত সৈন্যদের স্মরণে জানানো হয়।
মাদুরোর পরবর্তী দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ সাত দিনের শোক ঘোষণা করেন, যাতে শিকারের পরিবার ও জাতি দুজনেই শোকের সময় পার করতে পারে।
অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো উল্লেখ করেন যে, শিকারের পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ বিশ্লেষণ ব্যবহার করা হচ্ছে, কারণ কিছু শিকারের দেহ বোমা বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেসামরিক শিকারের পূর্ণ তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি, ফলে কতজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। সরকার এই তথ্য শীঘ্রই জানাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
মার্কিন দিক থেকে এই অভিযানকে মাদুরোর স্বৈরশাসন শেষ করার জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, মাদুরোর পতন ও শাসন কাঠামোর অস্থিরতা ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার পুনর্গঠন, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের নতুন পর্যায়ের সূচনা করতে পারে।
পরবর্তী দিনগুলোতে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও বেসামরিক ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বিষয়গুলো প্রধান আলোচনার বিষয় হবে।



