বাংলাদেশের যুব টিগারস আজ জিম্বাবুয়েরি বুলাওয়ায় কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে ভারতের তরুণ দলকে মুখোমুখি হবে। উভয় দলই আইসিসি ইউ‑১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে, আর বৃষ্টির সম্ভাবনা ম্যাচের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে তীব্রতা পেয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইউ‑১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, আর সেই চূড়ান্ত ম্যাচে ভারতের সঙ্গে তীব্র স্লেজিংয়ের পর্ব দেখা গিয়েছিল। ঐ মুহূর্তের উত্তেজনা আজও উভয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বয়ে চলছে।
২০২৪ সালের ইউ‑১৯ এশিয়া কাপের চূড়ান্তেও বাংলাদেশ ভারতকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। সেই জয়যাত্রার অংশ ছিলেন বর্তমান দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়, যার মধ্যে ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম তামিমও ছিলেন। তামিমের নেতৃত্বে দলটি আবারও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
ক্যাপ্টেন তামিম ম্যাচের আগে বললেন, “বড় দলগুলোর সঙ্গে খেললে মাঠে স্লেজিং অবশ্যম্ভাবী। আমাদের মানসিক ও শারীরিক শক্তি বজায় রাখতে হবে, যাতে আমরা কেবল মাথায় নয়, শরীরের ভাষাতেও জয় অর্জন করতে পারি।” তিনি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এই কথা উল্লেখ করেন।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বৃষ্টির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উষ্ণায়ন ম্যাচগুলোতে বেশ কয়েকটি খেলা সম্পূর্ণভাবে শেষ করা যায়নি। বাংলাদেশ পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে দুইটি উষ্ণায়ন ম্যাচে ফলাফল না পেয়ে শেষ করেছে। অন্যদিকে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিএলএস পদ্ধতিতে জয়লাভ করে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের সিলেক্টর এহসানুল হকও বৃষ্টির প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “প্র্যাকটিস নেটের কভার সরিয়ে ফেলেছি, তাই এখন নেট সেশন চালু করার আশা করছি। তবে আগামীকাল আবার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, তাই প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।” তাছাড়া তিনি যোগ করেন, “উষ্ণায়ন ম্যাচে ৫০ ওভার পর্যন্ত খেলতে পারিনি, পুরো টুর্নামেন্টে বৃষ্টির কারণে সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।”
কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিএলএস পদ্ধতি ব্যবহার করে রেজাল্ট নির্ধারিত হলে দলগুলোকে সীমিত ওভারে কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। এই পরিস্থিতি উভয় দলের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বাংলাদেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এই ম্যাচটি শুধু শিরোপা জয়ের পথ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ। তামিমের নেতৃত্বে দলটি মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে, যাতে বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও সঠিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারে।
ইন্ডিয়ান দলের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে ভালভাবে চালু হয়েছে, কারণ তারা ডিএলএস জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের শর্তে মানিয়ে নিতে পারছে। উভয় দলের জন্যই এই প্রথম ম্যাচটি টুর্নামেন্টের সামগ্রিক গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত আগামী দিনেই কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে মুখোমুখি হবে। উভয় দলের কোচ ও বিশ্লেষকরা বৃষ্টির পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সারসংক্ষেপে, ইউ‑১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বৃষ্টির হুমকি, পূর্বের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং উভয় দলের মানসিক প্রস্তুতি মিলিয়ে একটি উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা গড়ে তুলবে। এই ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য দিকনির্দেশনা দেবে, আর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই হবে মূল মাপকাঠি।



