নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার রাত প্রায় নয়টায় এশিয়ান হাইওয়ের সিংলাব এলাকায় ডাকাতি প্রস্তুতির সময় পুলিশ সাতজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। আটকে গৃহীত দলটি দেশীয় অস্ত্রসহ ছোরা, চাপাতি এবং লোহার রড বহন করছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা গ্রেফতার পর গোষ্ঠীকে ঘিরে গণধোলাই করার চেষ্টা করে, তবে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।
এশিয়ান হাইওয়ে (মদনপুর‑জয়দেবপুর) রুটে সন্ধ্যাবেলায় নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসী ডাকাত চক্র সক্রিয় হয়ে থাকে। তারা যাত্রী ও বিদেশফেরত বহনকারী গাড়ি থামিয়ে সম্পূর্ণ লুট করে, ফলে এই রাস্তায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। সিংলাব ব্রিজের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল রাতের বেলা ডাকাতি পরিকল্পনা করছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এই তথ্য পেয়ে সিংলাবের জঙ্গলে তৎক্ষণাৎ অভিযান চালায়। টর্চলাইটের আলোতে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করলে, আশেপাশের গ্রামবাসীরা চারদিকে ছড়িয়ে তাদের ঘিরে ধরতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দলটি গুলিবিদ্ধ না হয়ে আটকে গৃহীত সন্দেহভাজনদের নিরাপদে নেয়।
গ্রেফতারকৃত সাতজনের নাম ও বয়স প্রকাশিত হয়েছে: মো. আবদুল্লাহ (২২), মিন্টু (২১), হৃদয় (২০), সাগর (২৩), শিপন (১৮), জাকির হোসেন (২৫) এবং জিতেন্দ্র বর্মন (২২)। তারা সকলেই গৃহীত এলাকায় উপস্থিত ছিলেন এবং গোপনীয়ভাবে অস্ত্র সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের অনুসন্ধানে ছোরা, চাপাতি এবং লোহার রডসহ বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলো সাধারণত গ্রামাঞ্চলে সহজে পাওয়া যায় এবং ডাকাতি গোষ্ঠীর কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলো পরবর্তীতে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।
গ্রেফতার পর কিছু স্থানীয় বাসিন্দা গোষ্ঠীকে গণধোলাই করার চেষ্টা করে, ফলে পুলিশকে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়। এই সময়ে কিছু লোক পুলিশ গাড়ির দিকে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে, যা গাড়ির গ্লাসে ক্ষতি করে। তবে কোনো গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
গণধোলাইয়ের সময় আহত হওয়া কিছু বাসিন্দা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। আহতদের সংখ্যা ও আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আবদুল হক উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃত সাতজনের কাছ থেকে গৃহীত অস্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিবুল্লাহ জানান, এই গ্রেফতারের পর শনিবারই মামলাটি দায়ের করা হবে এবং সন্দেহভাজনদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।
অধিক তদন্তের পর যদি অতিরিক্ত অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশ দলটি ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।



