জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল তাদের ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে নতুন সমর্থন কর্মী হিসেবে কোর্টনি ওয়ালশকে যুক্ত করেছে। ওয়ালশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দলকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপটি টুর্নামেন্টের আগে দলকে প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ওয়ালশের সাব-খণ্ডে, বিশেষত ভারতীয় উপমহাদেশে, বহু ম্যাচের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পূর্বে এ অঞ্চলে দ্রুতগতি বোলিংয়ের ক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছেন। তার উপস্থিতি তরুণ বোলারদের জন্য বাস্তবিক নির্দেশনা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। জিম্বাবুয়ে এই সময়সূচির মধ্যে নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করতে ওয়ালশের সহায়তা গ্রহণ করবে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী দলকে ধারাবাহিক প্রস্তুতি নিতে হবে।
টুর্নামেন্টের গ্রুপ বি-তে জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই গ্রুপে প্রতিটি দলই টার্নামেন্টের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য গ্রুপে অগ্রগতি করে পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছানো।
জিম্বাবুয়ে ২০২৪ সালের এডিশন থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল, কারণ ২০২৩ সালের আফ্রিকা কোয়ালিফায়ার থেকে তারা টিকিট অর্জন করতে পারেনি। তবে এইবার দলটি পুনরায় বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন দলকে নতুন উদ্যমে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
দলটি ২০২৫ সালের আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ আফ্রিকা কোয়ালিফায়ার থেকে নামিবিয়ার সঙ্গে যোগ দিয়ে টিকিট নিশ্চিত করেছে। এই সাফল্য জিম্বাবুয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার প্রধান কারণ। কোয়ালিফায়ার জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে টুর্নামেন্টের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গিভেমোর মাকনি উল্লেখ করেছেন, এই নিয়োগটি দলের প্রযুক্তিগত গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়ালশের অভিজ্ঞতা দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপটি দলকে দ্রুতগতি বোলিংয়ে বিশেষজ্ঞতা যোগাবে।
মাকনি আরও যোগ করেন, “কোর্টনি ওয়ালশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসছেন, বিশেষ করে দ্রুতগতি বোলিংয়ে।” তার মতে, ওয়ালশের উপস্থিতি দলকে গ্লোবাল স্টেজে কীভাবে সফল হতে হয় তা বুঝতে সাহায্য করবে।
তিনি আরও বলেন, “কোর্টনি’র জ্ঞান, পেশাদারিত্ব এবং খেলোয়াড়দের মেন্টর করার ক্ষমতা আমাদের বোলিং সম্পদকে তীক্ষ্ণ করতে অপরিহার্য হবে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে দলটি বোলিং দিক থেকে শক্তিশালী হতে চায়। ওয়ালশের পরামর্শে তরুণ বোলারদের পারফরম্যান্স উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জিম্বাবুয়ের টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি ৯ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর সিংহালেস স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে ওমানের বিরুদ্ধে হবে। এই ম্যাচটি দলকে টুর্নামেন্টের শুরুর দিনেই রিদম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ওমানের সঙ্গে এই মুখোমুখি হওয়া দলকে প্রাথমিকভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
দ্বিতীয় ম্যাচটি ১৩ ফেব্রুয়ারি রি. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। অস্ট্রেলিয়া গ্রুপের শক্তিশালী দল, তাই এই ম্যাচটি জিম্বাবুয়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে ওয়ালশের নির্দেশনায় দলটি এই কঠিন প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।
সারসংক্ষেপে, কোর্টনি ওয়ালশের যোগদান জিম্বাবুয়ের টি২০ বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে নতুন দিক যোগ করেছে। তার অভিজ্ঞতা ও মেন্টরশিপ দলকে দ্রুতগতি বোলিংয়ে উন্নতি করতে সহায়তা করবে। গ্রুপ বি-তে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে দলটি টুর্নামেন্টে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রসর হবে।



