মিনেসোটা রাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেইকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার সন্দেহে তদন্তের মুখে রেখেছে। এই তদন্তের ভিত্তি হল দুইজনের আইসিই সম্পর্কিত প্রকাশ্য মন্তব্য, যা ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস ১৮ ইউ.এস.সি. § ৩৭২ ধারা অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যদি ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বাধা দিতে জোর, হুমকি বা ভয় দেখায়, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারার অধীনে ওয়ালজ ও ফ্রেইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সন্দেহে সাবপোনা জারি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে গত সপ্তাহে মিনিয়াপলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত রেনি গুডের মৃত্যু। ৩৭ বছর বয়সী গুডকে কমপক্ষে তিনটি গুলির আঘাত এবং সম্ভবত মাথায় চতুর্থ গুলির আঘাতের শিকার হিসেবে পাওয়া যায়। স্থানীয় ফায়ার ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে উল্লেখ আছে, গুলির সময় গুডের দেহে রক্তের ছিটা এবং গুলি চিহ্ন স্পষ্ট ছিল।
রেনি গুডের মৃত্যুর পর শহরে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়, যা দেশের বিভিন্ন অংশে সমর্থক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের সৃষ্টি করে। এই সময়ে গভর্নর ওয়ালজ টুইটার (X) তে একটি পোস্টে ফেডারেল বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে, এটিকে ‘অধিনায়কীয় কৌশল’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রেনি গুডের গুলির দায়ী এজেন্টের কোনো তদন্ত চলছে না, যদিও তিনি নিজে তদন্তের অধীন।
গভর্নর ওয়ালজ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে, জনসাধারণকে হিংসা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সদস্য ওয়ালজের মন্তব্যকে উত্তেজনাপূর্ণ বলে সমালোচনা করে, বিশেষ করে আইসিইকে ‘আধুনিক গেস্টাপো’ বলে বর্ণনা করার জন্য। অন্যদিকে মিনিয়াপলিসের মেয়র ফ্রেই আইসিইকে শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়ে, স্থানীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই এজেন্সির উপস্থিতি অনুপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন।
ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের সাবপোনা জারির পর, উভয় কর্মকর্তার আইনগত দল তাদের অধিকার রক্ষা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্তের পরিধি ও সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে উভয় পক্ষই এই বিষয়কে রাজনৈতিক চালচলন হিসেবে দেখার পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
মিনিয়াপলিসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রেনি গুডের মৃত্যুর পর শহরের শান্তি রক্ষার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং জনসাধারণকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, শহরের বাসিন্দা ও কর্মচারীরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইসিইয়ের কার্যক্রম ও ফেডারেল নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এই তদন্তের ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ওয়ালজ ও ফ্রেইকে আইসিই বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তবে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল নীতি ও ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষকে তীব্র করবে। অন্যদিকে, যদি তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে এটি ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের আইসিই বিরোধী অবস্থানের বৈধতা বাড়িয়ে তুলবে।
ভবিষ্যতে, ফেডারেল সরকার আইসিই সম্পর্কিত নীতি ও কার্যক্রমে আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে পারে, যা রাজ্য ও স্থানীয় স্তরে নতুন আইনি চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে, মিনেসোটা ও মিনিয়াপলিসের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এই বিষয়টি নির্বাচনী কৌশল ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সময়ে, রেনি গুডের পরিবার ও সমর্থক গোষ্ঠী শোক প্রকাশের পাশাপাশি ন্যায়বিচার চাওয়ার জন্য প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি হল, গুলির দায়ী এজেন্টের ওপর দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত, এবং আইসিইয়ের কার্যক্রমে কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ না করা।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ মিনেসোটা রাজ্যের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর আইসিই বাধা দেওয়ার সন্দেহে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, যা রেনি গুডের গুলির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই বিষয়ের অগ্রগতি দেশের অভ্যন্তরে ফেডারেল ও রাজ্য স্তরের সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নকে উস্কে দিতে পারে।



