18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগিনি জুন্তা মামাদি ডুমবুয়া নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন, সামরিক চিত্র ত্যাগে নাগরিক শৈলীতে

গিনি জুন্তা মামাদি ডুমবুয়া নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন, সামরিক চিত্র ত্যাগে নাগরিক শৈলীতে

গিনি জুন্তার সামরিক শাসক মামাদি ডুমবুয়া শনিবার শপথ গ্রহণ করে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন। ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি শাসনকালের শেষ পর্যায়ে নাগরিক শৈলীর চিত্র উপস্থাপন করছেন।

ডুমবুয়া ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সামরিক কুপের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তখন তিনি ৩৬ বছর বয়সী, উচ্চ কাঁধের কোলোনেল, সামরিক পোশাক, সানগ্লাস এবং লাল টুপি পরিহিত ছিলেন, যা জনগণের মনে শক্তিশালী ছাপ ফেলেছিল।

কুপের পর তিনি স্বীকার করেন যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডের শাসন গণতান্ত্রিক নীতিকে অবহেলা করেছে এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এরপর তিনি অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

চার বছরের বেশি সময় অস্থায়ী শাসক হিসেবে কাজ করার পর, ডুমবুয়া ৪১ বছর বয়সে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসেন। তিনি নিজেকে জেনারেল হিসেবে উপস্থাপন করে, পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভেঙে নির্বাচনে অংশ নেন।

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ভোটে ডুমবুয়া ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা কমে গিয়েছিল। তার জয়কে সমর্থকরা জনগণের ইচ্ছা হিসেবে উপস্থাপন করেন, তবে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সেলু ডালেইন ডায়াল্লো, যিনি বর্তমানে নির্বাসনে আছেন, নির্বাচনের ফলাফলকে ‘নাটকীয়’ এবং ‘নকল’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে ভোট প্রক্রিয়া গঠনমূলকভাবে বিকৃত হয়েছে।

ডুমবুয়ার শাসনকালীন সময়ে কিছু রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কর্মী সক্রিয় কর্মী অদৃশ্য হয়ে গেছেন এবং মিডিয়া আউটলেট বন্ধ করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্কতা প্রকাশ করেছে। এই বিষয়গুলো তার গণতান্ত্রিক সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

প্রেস অফিসের সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে তার ছবি ও ভিডিওগুলো সুচারুভাবে সাজানো হয়েছে। এতে দেখা যায় তিনি বিভিন্ন জনসাধারণের কাজের সঙ্গে যুক্ত, যা তাকে ‘জনসেবক’ হিসেবে উপস্থাপন করে।

সামরিক ইউনিফর্মের বদলে এখন তিনি ক্যাজুয়াল ক্যাপ, ট্র্যাকসুট বা গিনিয়ার ঐতিহ্যবাহী বুবু পরিধান করেন। যদিও কখনও কখনও সানগ্লাস দেখা যায়, তবে সামরিক ক্যামোফ্লেজের ব্যবহার কমে গেছে।

প্রধানত স্কুলের উদ্বোধন, রেলওয়ে ও খনি অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন এবং রাজধানী কনাক্রির রাস্তায় সাইকেল চালানোর দৃশ্যগুলোতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ‘জনসাধারণের কাছে নিকটবর্তী নেতা’ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে ডুমবুয়ার এই চিত্র পরিবর্তন তার নাগরিক শাসকের রূপ নিতে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে কৌশলগত পদক্ষেপ। তিনি সামরিক শাসকের চিত্র থেকে দূরে সরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে চান।

ভবিষ্যতে ডুমবুয়ার শাসন কীভাবে গতি পাবে তা অনিশ্চিত। যদি তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী না করেন, তবে গিনির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, যদি তিনি সত্যিকারের নাগরিক শাসক হিসেবে কাজ করেন, তবে দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments