অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ মহিলা ফুটবল লিগে ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতজন খেলোয়াড়ই অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (ACL) ফাটল ভোগ করেছেন। এদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কোস্ট মেরিনার্সের ডিফেন্ডার ক্যনন ক্লফ, সাবিত্রা ভান্ডারি, গ্রেস কুইলামু এবং ইসাবেলা কোকো-ডি-সিপিও সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে আঘাত পেয়েছেন। ক্লফের ক্ষেত্রে, উচ্চ বল রক্ষার সময় লাফিয়ে গিয়ে তার পা ও দেহের দিক ভিন্ন হওয়ায় হঠাৎ একটি পপ শব্দ শোনা যায় এবং তার পা ব্যথা অনুভব করে। প্রাথমিকভাবে এটি মাইনর মসকুলার টিয়ার বলে ধারণা করা হয়, তবে স্ক্যানের পর স্পষ্ট হয় যে ACL এবং মেনিস্কাস উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে পুরো সিজন শেষ হয়ে যায়। ক্লফ জানান, এই আঘাত তার জন্য অপ্রত্যাশিত শক ছিল এবং তিনি আগে কখনো এত দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠ থেকে দূরে থাকতে পারেননি।
এই ঘটনার পর, লিগের অন্যান্য তিনজন খেলোয়াড়ও একই ধরনের আঘাতের শিকার হন। সাবিত্রা ভান্ডারি, গ্রেস কুইলামু এবং ইসাবেলা কোকো-ডি-সিপিওর ক্ষেত্রে একই রকম ACL ফাটল শনাক্ত হয়েছে, যা তাদের মৌসুমের বাকি অংশে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে। মোট সাতজন খেলোয়াড়ের এই সংখ্যা, বিশেষ করে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চারজনের আঘাত, লিগের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
বর্তমানে A-League Women-এ ACL আঘাতের কোনো সরকারি রেকর্ড বা ডেটাবেস নেই, এবং লিগের অভ্যন্তরে এই ধরনের আঘাতের কারণ বিশ্লেষণের জন্য কোনো গবেষণা চালু করা হয়নি। এই তথ্যের ঘাটতি কেবল অস্ট্রেলিয়ার নয়, বিশ্বব্যাপী একটি প্রবণতা। গবেষণা অনুযায়ী, মহিলা ক্রীড়াবিদ পুরুষের তুলনায় দুই থেকে ছয় গুণ বেশি ACL ফাটল ভোগ করেন, তবু সব ক্রীড়া বিজ্ঞান গবেষণার মাত্র ছয় শতাংশই নারীর দেহের উপর কেন্দ্রীভূত।
এই বৈষম্যপূর্ণ গবেষণা বিন্যাসের ফলে মহিলা খেলোয়াড়দের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং আঘাত প্রতিরোধের কৌশল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। লিগের অভ্যন্তরে ডেটা সংগ্রহের অভাব এবং গবেষণার অপ্রতুলতা, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের ঘাটতি নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি লিগের পরিচালনা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থা এই সমস্যাকে গুরুত্ব না দেয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি খেলোয়াড় একই ধরনের আঘাতের শিকার হতে পারেন।
এ পর্যন্ত লিগের প্রশাসন কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি যে কীভাবে ACL আঘাতের রেকর্ড রাখা হবে বা গবেষণা চালু করা হবে। তবে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা, যেমন মিশেল ইনস্টিটিউট, নারী ক্রীড়াবিদদের আঘাত সংক্রান্ত গবেষণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে এবং লিগকে এই দিক থেকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, A-League Women-এ ACL আঘাতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ডেটা সংগ্রহ ও গবেষণার অভাবের কারণে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করা কঠিন। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে আঘাতের হার কমাতে, লিগের প্রশাসনকে ত্বরিতভাবে ডেটা সিস্টেম গঠন এবং নারী ক্রীড়া বিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ না নিলে, মহিলা ফুটবলের উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।



