টমি ওয়ার্কোলা পরিচালিত, শিরোনামহীন একটি থ্রিলার নেটফ্লিক্সে প্রকাশের পথে। ছবিতে ফোইবি ডাইনভার, হুইটনি পিক এবং ডজিমন হৌনসু প্রধান ভূমিকায় আছেন। প্রযোজক হিসেবে অ্যাডাম ম্যাককেই এবং কেভিন মেসিক যুক্ত। নেটফ্লিক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই চলচ্চিত্রটি বছরের শেষের দিকে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হবে।
প্রকল্পটি মূলত সনি পিকচার্সের অধীনে থিয়েটার রিলিজের জন্য নির্ধারিত ছিল। প্রথমে ১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, পরে ৩ জুলাই ২০২৬-এ স্থানান্তরিত হয়। তবে সনি শেষমেশ থিয়েটার রিলিজের পরিকল্পনা বাতিল করে, ফলে ছবিটি সরাসরি স্ট্রিমিংয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
চিত্রটির কাহিনী সম্পর্কে এখনো কোনো বিশদ প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বের সূত্রে শার্কের উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে চলচ্চিত্রটি সমুদ্র বা জলজ থিমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে অনুমান করা যায়।
সনি এবং নেটফ্লিক্সের মধ্যে প্রথম-দেখার চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে সনি সরাসরি স্ট্রিমিং প্রকল্পগুলো নেটফ্লিক্সে বিক্রি করতে পারে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে, সনি সম্প্রতি একটি গ্লোবাল পে-১ লাইসেন্সিং চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে তার ফিচারগুলো থিয়েটার ও হোম মিডিয়া উইন্ডোর পর নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম করা হবে।
দুই কোম্পানির পূর্বের সহযোগিতার মধ্যে সনি পিকচার্স অ্যানিমেশনের “দ্য মিচেলস ভস দ্য মেশিনস” অন্তর্ভুক্ত, যার সিক্যুয়েল বর্তমানে প্রস্তুত। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে “পিপল উই মিট অন ভ্যাকেশন” এবং “কে-পপ ডেমন হান্টার্স” নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হয়েছে, যেখানে পরেরটি সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা অর্জন করেছে।
টমি ওয়ার্কোলা পূর্বে “ডেড স্নো”, “হ্যান্সেল অ্যান্ড গ্রেটেল: উইচ হান্টার্স” এবং “হোয়াট হ্যাপেন্ড টু মানডে” সহ বিভিন্ন শৈল্পিক শৈলীর চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি “ভায়োলেন্ট নাইট ২” পরিচালনা করছেন, যা ৪ ডিসেম্বর ইউনিভার্সাল পিকচার্সের মাধ্যমে থিয়েটারে মুক্তি পাবে এবং ডেভিড হারবার সান্তা ক্লজের ভূমিকায় ফিরে আসবেন।
ফোইবি ডাইনভার ব্রিজারটন সিরিজে তার পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত, পাশাপাশি “ফেয়ার প্লে” এবং “অ্যানিভার্সারি” চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। হুইটনি পিক এবং ডজিমন হৌনসু উভয়ই আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত অভিনেতা, যারা বিভিন্ন ধরণের ভূমিকা পালন করেছেন।
সনি এই সিদ্ধান্তের পেছনে সম্ভবত বাজারের পরিবর্তন এবং স্ট্রিমিং সেবার বাড়তি চাহিদা বিবেচনা করেছে। থিয়েটার রিলিজের পরিবর্তে সরাসরি নেটফ্লিক্সে প্রকাশের মাধ্যমে বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য দেখা যায়।
নেটফ্লিক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছবিটি বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং লাইব্রেরিতে যুক্ত হবে, ফলে দর্শকরা বিভিন্ন দেশে একই সময়ে এটি উপভোগ করতে পারবেন। এই ধরনের সরাসরি স্ট্রিমিং চুক্তি চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন বিতরণ মডেলকে শক্তিশালী করছে।
প্রকাশের সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত নয়, তবে সূত্র অনুযায়ী বছরের শেষের দিকে স্ট্রিমিং শুরু হবে। দর্শকরা নেটফ্লিক্সের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজে এই চলচ্চিত্রটি দেখতে পারবেন।
চলচ্চিত্রের শিরোনাম এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি সনি-নেটফ্লিক্সের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে আরও এমন প্রকল্পের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে থিয়েটার রিলিজের পরিবর্তে সরাসরি স্ট্রিমিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং দর্শকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে, পাশাপাশি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র করবে।



