19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প প্রশাসন গাজা শান্তি বোর্ডে ব্লেয়ার ও রুবিওকে অন্তর্ভুক্ত করেছে

ট্রাম্প প্রশাসন গাজা শান্তি বোর্ডে ব্লেয়ার ও রুবিওকে অন্তর্ভুক্ত করেছে

ট্রাম্প প্রশাসন গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে একটি নতুন “শান্তি বোর্ড” গঠন করেছে এবং এতে যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার ও মার্কো রুবিওকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই ঘোষণাটি বুধবারের হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে প্রকাশিত হয়।

বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্যদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্টের জামাই জ্যারেড কুশনার, প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের প্রধান মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বানগা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল অন্তর্ভুক্ত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং এটি তার ২০‑পয়েন্ট পরিকল্পনার একটি মূল উপাদান হিসেবে গাজা ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাত সমাপ্তির প্রচেষ্টায় অন্তর্ভুক্ত।

বোর্ডের কাজের পরিধি গাজার সাময়িক প্রশাসন তত্ত্বাবধান, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতিটি সদস্যকে গাজার পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হবে।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিটি সদস্যের পোর্টফোলিও গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই কাঠামোটি গাজার মানবিক সংকটের তাত্ক্ষণিক সমাধান এবং ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন পরিকল্পনা সমন্বয় করার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।

ট্রাম্প গাজা শান্তি বোর্ডের গঠন সম্পর্কে মন্তব্য করে এটিকে “এতদিনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং বিশিষ্ট বোর্ড” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে আরও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।

ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসংঘের চারটি আন্তর্জাতিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোয়ার্টেটের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করেছেন।

গাজা শান্তি বোর্ডের গঠন একই সময়ে প্যালেস্টাইনের একটি স্বতন্ত্র ১৫ সদস্যের প্রযুক্তিগত কমিটি, জাতীয় গাজা প্রশাসন কমিটি (NCAG) গঠনের ঘোষণার পর আসে। এই কমিটি গাজার যুদ্ধোত্তর দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।

NCAG-র প্রধান হিসেবে প্যালেস্টাইনের পূর্ব তীরের অধীনস্থ প্যালেস্টাইন অথরিটিতে পূর্বে উপ-মন্ত্রীর পদে কর্মরত আলি শাথকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি গাজার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কাজের তত্ত্বাবধান করবেন।

বুলগেরিয়ার রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকোলাই ম্লাদেনভকে গাজায় বোর্ডের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ম্লাদেনভ গাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে NCAG-র সঙ্গে সমন্বয় কাজ করবেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজার নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (ISF) গঠন করা হবে। এই বাহিনী গাজার নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনে প্রশিক্ষণ দেবে।

গাজা শান্তি বোর্ডের গঠন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে; কিছু বিশ্লেষক এটিকে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে প্যালেস্টাইনের স্বায়ত্তশাসন ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে বোর্ডের কার্যক্রম গাজার মানবিক সংকটের সমাধান, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার দিকে কেন্দ্রীভূত হবে। একই সঙ্গে NCAG এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় গাজা অঞ্চলের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments