ইউকেতে জন্ম নেওয়া রক স্টার ইয়াংব্লাড এই সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত তার কনসার্টে ইরানের প্রতিবাদকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি তীব্র বার্তা দিলেন। তিনি ইরানের অর্থনৈতিক মন্দা ও ব্যাপক প্রতিবাদে নিহতদের সংখ্যা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
কনসার্টের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ২০২২ সালে হিজাব না পরার কারণে মারা যাওয়া ইরানি তরুণী মাহসা আমিনির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা তার কাজ নয়, তবে সমতা ও মুক্তির জন্য লড়াই করা সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে তিনি ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন।
ইরানে চলমান প্রতিবাদকে তিনি “মহিলাদের নেতৃত্বে গৃহীত বিপ্লব” হিসেবে বর্ণনা করেন। চার দিন ধরে ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় জনগণ অন্ধকারে আটকে আছে, তাই তারা আন্তর্জাতিক সমর্থনের জন্য কণ্ঠ তুলছে। ইয়াংব্লাডের মতে, এই মুহূর্তে বিশ্বকে তাদের আলো হয়ে উঠতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে পারে।
ইরানের প্রতিবাদে নিহতদের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, ইয়াংব্লাডের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে মানুষকে শেয়ার, পোস্ট ও কণ্ঠ তুলতে আহ্বান জানান, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন স্বাধীনতা একসাথে অর্জিত হতে পারে।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে হোলিভুডের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে নীরব রয়ে গেছে। তবে ইয়াংব্লাডের পাশাপাশি অন্য কিছু শিল্পীও এই সপ্তাহে তাদের মত প্রকাশ করেছেন।
পপ আইকন মাদোনার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি ইরানের জনগণকে শতাব্দীর পর শতাব্দী স্বাধীনতা না পেয়ে চলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি নিজের জীবনের স্বাধীনতা, যেমন বিশ্ব ভ্রমণ, পছন্দমতো পোশাক পরা, মরুভূমিতে ঘোড়া চড়া, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গানের ও নাচের স্বাধীনতা, এবং নিজের ধর্মীয় পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা, ইরানের নারীদের থেকে ভিন্ন বলে জোর দেন।
মাদোনা স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের নারীরা এইসব মৌলিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত, এবং তিনি তাদের পাশে আছেন। তার পোস্টে ইরানের মানুষের জন্য সমর্থনের আহ্বান এবং স্বাধীনতার অধিকারকে পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।
ইরানে চলমান প্রতিবাদে ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বন্ধের ফলে তথ্যের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সমর্থন এই বাধা ভাঙতে সহায়তা করতে পারে। ইয়াংব্লাডের বক্তব্যে তিনি এই বাধা ভাঙার জন্য সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন।
ইরানের প্রতিবাদকারীরা মূলত নারীর অধিকার ও সরকারী নীতির বিরোধে রাস্তায় নেমে এসেছে। তাদের দাবি হল মৌলিক মানবাধিকার, সমতা ও স্বাধীনতা, যা বহু দেশের নাগরিকের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে মিডিয়ার দৃষ্টিতে এখনও যথেষ্ট মনোযোগ না পাওয়া যায়। ইয়াংব্লাডের মত প্রকাশ এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে।
ইরানের প্রতিবাদে নিহতদের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, বিশ্বজনীন সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে। শিল্পীদের কণ্ঠস্বর এই আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অবশেষে, ইয়াংব্লাড ও মাদোনার মতো শিল্পীরা ইরানের মানুষের জন্য স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়ে, তাদের সংগ্রামকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেছেন। এই সমর্থন ইরানের নাগরিকদের জন্য এক ধরনের মানসিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সূচনা হতে পারে।



