ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএএ) ১১ দলীয় জোট ত্যাগের পর একা প্রার্থী ঘোষণা করেছে, ফলে বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচনী গঠন পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ঘোষণাটি গত বৃহস্পতিবার ২৭৩ আসনে জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে করা হয়, এবং জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা নতুন ছক তৈরি করতে ব্যস্ত।
আইএএর একক প্রার্থী হিসেবে বরিশাল সদর আসনে মুফতি ফয়জুল করিম নাম নিবন্ধন করেছেন, যিনি দলটির নায়েব আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাইরের ছোট ভাই। এই পদক্ষেপের ফলে জোটের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে আইএএর সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ পূর্বে দুই দলের মধ্যে মাঠে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল।
ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগের পর বিএনপি কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, আইএএর প্রস্থান জোটের মধ্যে জামায়াত ছাড়া বিএনপির সামনে বড় কোনো প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতি সৃষ্টি করেছে, ফলে নির্বাচনী পরিবেশে ভারসাম্য ফিরে আসতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই পরিবর্তন বরিশাল সদর আসনের ভোটের চালচিত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
বরিশাল সদর আসনে জামায়াতের প্রার্থী এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তবে জোটের স্বার্থ রক্ষার জন্য কিছুটা পেছনে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং বরিশাল সদর আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলকারী অ্যাডভোকেট মুয়ায্জম হোসাইন হেলাল জানান, দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং পূর্বে জোটের স্বার্থে তারা কিছু ত্যাগ করেছে। তিনি যোগ করেন, যদি দল তাকে আবার বরিশাল সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করে, তবে তিনি প্রস্তুত।
আইএএর একক প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াতের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও ঠান্ডা হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে বহু আসনে আইএএকে বাদ দেওয়ার ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জামায়াতের কিছু দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, যদিও জামায়াতের প্রার্থী ভালো অবস্থানে, জোটের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা প্রার্থীকে ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আইএএ ও জামায়াত ইসলামীই এক দল, আরেক দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও বিএনপির জন্য সুবিধা বয়ে আনতে পারে, তবে মাঠে এখনও বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়ে গেছে। জুলাই বিপ্লবের পর দক্ষিণাঞ্চলের কোনো ওয়ার্ডে একক কমিটি গঠন করতে পারা যায়নি, এবং গণঅভ্যুত্থানের পর দলটির কিছু নেতাকর্মীর দুর্নীতিপূর্ণ আচরণ থেকে এখনো উত্তরণ ঘটেনি।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ভোটের গঠন পরিবর্তনের ফলে পার্টিগুলোর কৌশল পুনর্গঠন করা হবে। আইএএর একক প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিমের উপস্থিতি ভোটের প্রবাহে নতুন গতিবিধি আনতে পারে, বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক সংযোগের ভিত্তিতে। জামায়াতের প্রার্থী যদি জোটের স্বার্থে পদত্যাগ না করে, তবে দুই দলের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে, যা ভোটারদের পছন্দকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, আইএএর জোট ত্যাগ এবং একক প্রার্থী ঘোষণার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন পরিবর্তন আসবে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই পরিবর্তন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কিছুটা স্বচ্ছতা দেবে, তবে পার্টিগুলোর মধ্যে নতুন জোট গঠন এবং কৌশলগত সমন্বয়ও প্রয়োজন হবে। আগামী সপ্তাহে প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন কার্যক্রম এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হবে।



