১৯৯৮ সালের হিট চলচ্চিত্র ‘আর্মেজডন’‑এর শেষ দৃশ্যে বেন অ্যাফ্লেকের মুখোমুখি হওয়া অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সমস্যার কথা তিনি শিকাগোর একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ব্রুস উইলিসের চরিত্র হ্যারি স্ট্যাম্পার যখন তার সন্তানকে ত্যাগ করে গ্রহ রক্ষার জন্য আত্মত্যাগের দৃশ্য শুট করছিল, তখনই তিনি তীব্র খাবার বিষক্রিয়ায় ভুগছিলেন।
সেই দৃশ্যে উইলিসের চরিত্রের শেষ বিদায়ের মুহূর্তটি চলচ্চিত্রের অন্যতম আবেগপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। হ্যারি স্ট্যাম্পার তার সন্তান এ. জে. ফ্রস্টকে (বেনের চরিত্র) ত্যাগ করে মহাজাগতিক শিলার ধ্বংস রোধের জন্য আত্মসমর্পণ করেন। এই দৃশ্যের শুটিং চলাকালে বেনের শারীরিক অবস্থা অস্বাভাবিকভাবে খারাপ ছিল।
অ্যাফ্লেক জানান, শুটিংয়ের সময় তিনি খাবার বিষক্রিয়ার কারণে বমি করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। তৎকালীন তার অভিনয় অভিজ্ঞতা সীমিত থাকায় তিনি কাজ থেকে দূরে থাকা বা অসুস্থতা জানিয়ে ছুটি নেওয়ার সুযোগকে স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিলেন না। ফলে তিনি দৃশ্যের মাঝখানে বমি করে গারবেজ ক্যানের মধ্যে ফেলে শুটিং চালিয়ে গেছেন।
বেমারটি শুটিংয়ের গতি কমিয়ে না দিয়ে, বরং দৃশ্যের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে এমন তার মন্তব্যে হাস্যরসের ছোঁয়া রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বমি করার বিরতি মাঝে মাঝে ক্যামেরার সামনে থাকা আবেগকে আরও স্বাভাবিক করে তুলেছিল।
ব্রুস উইলিসের সঙ্গে কাজ করার সময় বেনের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, উইলিস সব অভিনেতা ও কর্মীদের প্রতি সদয় আচরণ করতেন এবং শুটিং সেটে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশই পুরো দলকে একসাথে কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল।
‘আর্মেজডন’‑এর কাস্টে অন্যান্য পরিচিত নামও ছিল। বিলি বব থরনটন, স্টিভ বাসেমি, ওয়েন উইলসন, মাইকেল ক্লার্ক ডাঙ্কান এবং উইল প্যাটন চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। লিভ টাইলার বেনের প্রেমিকা গ্রেস স্ট্যাম্পার চরিত্রে অভিনয় করে হ্যারি স্ট্যাম্পারের কন্যা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি ‘দ্য রিপ’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে স্টিভ বাসেমির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় বেন অতীতের ‘আর্মেজডন’ শুটিংয়ের স্মৃতি তাজা করে তোলেন। তিনি দুজনেই সেই সময়ের অদ্ভুত, তবে মধুর অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেটের অদ্ভুত পরিবেশকে স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্রের পরিচালক মাইকেল বেইও বেনের শুটিং সময়ের অসুস্থতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বেনের শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল, তবে তিনি দৃশ্যটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং তার পারফরম্যান্সে কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। বেই এই অভিজ্ঞতাকে ‘গ্রীষ্মের ক্যাম্পের মতো’ রোমাঞ্চকর বলে বর্ণনা করেছেন।
এই সব তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ‘আর্মেজডন’ শুটিংয়ের পেছনে কেবল বড় স্ক্রিনের ঝলক নয়, বরং অভিনেতাদের শারীরিক কষ্ট ও পেশাদারিত্বের গল্পও লুকিয়ে আছে। বেনের এই স্বীকারোক্তি চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক দৃশ্যের পেছনের মানবিক দিককে উন্মোচন করে।
অবশেষে, বেন অ্যাফ্লেকের এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে—শুটিংয়ের সময় শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় যথাযথভাবে সহায়তা চাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।



