ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (ইএবি) শুক্রবার বিকালে প্রকাশিত সংবাদ সম্মেলনে জানায়, তারা জামায়াত‑ইসলামীর নির্বাচনী জোটে অংশ নেবে না এবং ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাকি ৩২টি আসনে অন্যান্য দলকে সমর্থন জানাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসলামপন্থী দলগুলোর একত্রিত ভোটের সম্ভাবনা হঠাৎই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
জামায়াত‑ইসলামীর জোটের পূর্বে ঘোষিত ২৫৩ আসনের ভাগাভাগি পরিকল্পনা, যেখানে ২০৭টি আসন জামায়াতের এবং ৪৬টি আসন ইসলামীর জন্য নির্ধারিত ছিল, এখন অস্থির অবস্থায় রয়েছে। অবশিষ্ট ৪৭টি আসনের ভাগাভাগি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, এবং ইএবি এই আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই ঘোষণার আগে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর প্রস্তুতি চলাকালীন, ইসলামপন্থী দলগুলোকে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায়, ইসলামপন্থী দলগুলোকে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে ইএবির জোট ত্যাগের ফলে ঐ সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইএবির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমানের মতে, দলটি জামায়াতের সাথে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে স্বাধীনভাবে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং বাকি ৩২টি আসনে অন্যদের সমর্থন দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসলামপন্থী ভোট একত্রিত করার সম্ভাবনা এখনো পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়েছে, যদিও এই ধারণা প্রায় এক বছর আগে বরিশালের চরমোনাইয়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতে উত্থাপিত হয়েছিল।
ইএবির কিছু নেতা উল্লেখ করেছেন, জামায়াতের জোটে না যোগ করার ফলে দেশের বহু আসনে প্রভাব পড়বে। তারা যুক্তি দেন, যদি উভয় দল একসাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত, তবে শতাধিক আসনে তাদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ সৃষ্টি হতো। তবে এখন এই সুযোগ হারিয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে ভোটের গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে পূর্বে ঘোষিত ২৫৩ আসনের ভাগাভাগি পরিকল্পনা, যা ২৫৩টি আসনকে দুই দলের মধ্যে ভাগ করার কথা ছিল, এখন অস্থির। দলটি ৪৭টি আসনের ভাগাভাগি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা করতে পারেনি, এবং ইএবির জোট ত্যাগের ফলে এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত ও ইএবির জোট যদি বজায় থাকত, তবে উভয় দল একত্রে ভোটের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারত। এখন জোটের বিচ্ছেদে এই প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং বিএনপির জন্য ভোটের ভাগে সুবিধা তৈরি হতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞ এখনও সন্দেহ প্রকাশ করছেন, ইসলামপন্থী দলগুলো ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব রাখতে পারবে।
অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে, ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো জামায়াতের সঙ্গে ইসলামপন্থী দলগুলোর সম্মিলিত নির্বাচনের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছিল, তবে ইএবির এই সিদ্ধান্ত সেই সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে।
ভবিষ্যতে, ইসলামপন্থী দলগুলো কীভাবে ভোটের ভাগে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখবে, তা এখন প্রশ্নের মুখে। ইএবি এককভাবে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তবে অন্যান্য দলগুলোর সমর্থন পেতে পারে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। জামায়াতের জোটের পুনর্গঠন বা নতুন জোটের সন্ধান করা হবে কিনা, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, ভোটের ফলাফল এবং পার্টি গঠনের গতিপথে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ইএবি ও জামায়াতের জোট না থাকলে, ভোটের গতি-প্রকৃতি পুনর্গঠন হতে পারে এবং বিএনপির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন এই পরিবর্তনের পরিণতি এবং পরবর্তী কৌশলগত পদক্ষেপের দিকে নজর দিচ্ছেন।



