হলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স সম্প্রতি একটি পডকাস্টে জানিয়েছেন যে, তিনি ২০১৯ সালের কমেডি‑ড্রামা ‘ওন্সে আপন টাইম ইন হলিউড’ ছবিতে শারন টেটের চরিত্রে কাস্ট না হওয়ার পেছনে ইন্টারনেটের নেগেটিভ মন্তব্যের প্রভাব থাকতে পারে। তিনি ‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড’ পডকাস্টের এক পর্বে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা এবং শিল্পের বর্তমান প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
লরেন্সের মতে, চলচ্চিত্রের পরিচালক কোয়েন্টিন টারান্টিনো মূলত তাকে শারন টেটের ভূমিকায় বিবেচনা করছিলেন। টারান্টিনোর পরিকল্পনা ছিল লরেন্সকে লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও ও ব্র্যাড পিটের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করানো, যা ত্রয়ীকে এক নতুন মাত্রা দিত। তবে, লরেন্সের কাস্টিং ঘোষণার পর অনলাইন মন্তব্যে তিনি ‘সুন্দর নয়’ এমন অভিযোগের মুখোমুখি হন, যা শেষ পর্যন্ত কাস্টিং সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
লরেন্স উল্লেখ করেন, কিছু নেটিজেনের মন্তব্যে তিনি ‘শারন টেটের ভূমিকায় যথেষ্ট সুন্দর নয়’ বলে সমালোচনা পেয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের নেগেটিভ ফিডব্যাকের ফলে টারান্টিনোর কাস্টিং টিমকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও তিনি নিশ্চিত নন টারান্টিনো শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দিয়েছেন কিনা, তবু ইন্টারনেটের তীব্র সমালোচনা তাকে এই সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
পডকাস্টের হোস্ট জোশ হোরোউইটজ তার মন্তব্যে অবাক হয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে লরেন্স দৃঢ়ভাবে বলেন যে এই ঘটনা সত্যিকারের ঘটেছে। তিনি আরও যোগ করেন, হয়তো টারান্টিনো শুরুর থেকেই তাকে বিবেচনা করেননি, আর নেটের ‘অ্যাপারেন্স‑বেসড’ সমালোচনা ঘটনাটিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। হোরোউইটজ ইন্টারনেটের এমন আচরণকে ‘কখনোই না’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন, কিন্তু লরেন্স হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, ‘না, সেসব মিষ্টি মন্তব্যগুলোই মূল কারণ’।
এছাড়াও লরেন্স উল্লেখ করেন যে তিনি টারান্টিনোর অন্য একটি ছবিতে, ২০১৫ সালের ‘দ্য হেটফুল এইট’‑এ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মূলত জেনিফার জেসন লি‑এর জন্য রচিত সেই চরিত্রটি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন, যা এখন তিনি ‘পশ্চাৎবোধে অনুতাপ’ হিসেবে স্বীকার করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি টারান্টিনোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ হারিয়ে ফেলেছেন।
‘ওন্সে আপন টাইম ইন হলিউড’ ছবিতে শারন টেটের ভূমিকাটি শেষ পর্যন্ত মারগট রোবি গ্রহণ করেন। রোবি তার শারীরিক গুণাবলী এবং আত্মবিশ্বাসের জন্য এই চরিত্রে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। রোবির কাস্টিংকে সমর্থনকারী অনলাইন মন্তব্যগুলো মূলত তার ‘সৌন্দর্য ও উপস্থিতি’কে প্রশংসা করে, যা শারন টেটের স্মৃতিকে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করবে বলে ধারণা করা হয়।
শারন টেটের বোন ডেব্রা টেট ২০১৭ সালে টিএমজেডের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে রোবির কাস্টিংকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, রোবির শারীরিক সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসই তাকে শারন টেটের ভূমিকায় সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। ডেব্রা টেটের এই মন্তব্য লরেন্সের দাবি ও ইন্টারনেটের সমালোচনার মধ্যে একটি বিরোধপূর্ণ দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
লরেন্সের এই প্রকাশনা হোলিউডে কাস্টিং প্রক্রিয়ায় ‘দেখার মানদণ্ড’ এবং সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনলাইন মন্তব্যগুলো কখনো কখনো শিল্পীদের ক্যারিয়ারকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যখন তা ‘সৌন্দর্য‑সম্পর্কিত’ সমালোচনার রূপ নেয়।
এই ঘটনাটি চলচ্চিত্র শিল্পে সৌন্দর্যের মানদণ্ড এবং সামাজিক মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে। শিল্পের বিভিন্ন স্তরে এখন আরও বেশি করে ‘বৈচিত্র্য’ এবং ‘সামগ্রিক প্রতিভা’কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান বাড়ছে, যাতে কোনো একক মানদণ্ডে সীমাবদ্ধ না থেকে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়।
লরেন্স ভবিষ্যতে টারান্টিনোর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তিনি আরও বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে চান। যদিও ‘ওন্সে আপন টাইম ইন হলিউড’ ছবিতে তিনি শারন টেটের ভূমিকা পাননি, তবু তার এই মন্তব্য চলচ্চিত্র জগতের কাস্টিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।



