27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিচাই ডিসকভারি ইলি লিলির সঙ্গে চুক্তি করে AI ওষুধ উন্নয়নে নতুন মাইলফলক

চাই ডিসকভারি ইলি লিলির সঙ্গে চুক্তি করে AI ওষুধ উন্নয়নে নতুন মাইলফলক

সিলিকন ভ্যালির AI স্টার্ট‑আপ চাই ডিসকভারি, ইলি লিলির সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে নতুন ওষুধের গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে। চুক্তিটি গত শুক্রবার ঘোষিত হয় এবং উভয় সংস্থা তাদের নিজস্ব সফটওয়্যার ও ডেটা ক্ষমতা একত্রে কাজে লাগিয়ে অ্যান্টিবডি‑ভিত্তিক থেরাপি দ্রুত তৈরি করতে চায়। এই পদক্ষেপটি AI‑চালিত ড্রাগ ডিসকভারির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত।

চাই ডিসকভারি ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মূল লক্ষ্য হল উচ্চ পারফরম্যান্স কম্পিউটিং ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে নতুন অণু ও অ্যান্টিবডি সনাক্ত করা। প্রতিষ্ঠাতা দলটি বায়োটেক ও সফটওয়্যার উভয় ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে গঠিত, যা তাদেরকে প্রচলিত উচ্চ‑থ্রুপুট স্ক্রিনিং পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে সহায়তা করে। কোম্পানির প্রযুক্তি অণু নকশাকে স্বয়ংক্রিয় করে গবেষণার সময় ও ব্যয় কমাতে লক্ষ্য রাখে।

প্রতিষ্ঠার এক বছরও পূর্ণ না হওয়ার আগে, চাই ডিসকভারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য তহবিল সংগ্রহ করে। সিরিজ এ রাউন্ডে কয়েক শত কোটি ডলার তহবিল নিশ্চিত হয়, যা কোম্পানির দ্রুত বৃদ্ধি ও গবেষণা অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হয়। এই তহবিলের বেশিরভাগই সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ বিনিয়োগ ফার্ম ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম থেকে আসে, যারা AI‑ভিত্তিক বায়োফার্মা স্টার্ট‑আপে আগ্রহী।

ডিসেম্বর মাসে কোম্পানি সিরিজ বি ফান্ডিং রাউন্ড সম্পন্ন করে, যেখানে অতিরিক্ত ১৩০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়। এই রাউন্ডের পর চাই ডিসকভারির মূল্যায়ন ১.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা এটিকে বায়োটেক সেক্টরের অন্যতম দ্রুত মূল্যায়িত স্টার্ট‑আপ করে তুলেছে। সিরিজ বি তহবিল মূলত গবেষণা দলকে শক্তিশালী করা, ক্লাউড কম্পিউটিং ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন অ্যালগরিদম উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

ইলি লিলির সঙ্গে চুক্তিতে, ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্টটি চাই ডিসকভারির সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অ্যান্টিবডি ভিত্তিক ওষুধের প্রারম্ভিক পর্যায়ে ডিজাইন ও অপ্টিমাইজেশন করবে। লিলি এই সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন থেরাপি দ্রুত বাজারে আনার লক্ষ্য রাখে, বিশেষ করে অটোইমিউন রোগ ও ক্যান্সার চিকিৎসায়। চুক্তির শর্তে উভয় পক্ষই ডেটা শেয়ারিং, মডেল প্রশিক্ষণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

চাই‑২ নামে পরিচিত অ্যালগরিদমটি অ্যান্টিবডি ডিজাইনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এটি বিশাল জেনেটিক ও প্রোটিন ডেটাবেস বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লক্ষ্য অণু সনাক্ত করে এবং সেগুলোর সাথে সর্বোত্তম বন্ধনশক্তি সম্পন্ন অ্যান্টিবডি প্রস্তাব করে। মেশিন লার্নিং মডেলগুলো ল্যাবের পরীক্ষামূলক ডেটা থেকে ক্রমাগত শিখে পারফরম্যান্স উন্নত করে, ফলে মানব গবেষকদের হাতে থাকা সময় ও সম্পদ কমে যায়।

কোম্পানি চাই ডিসকভারির লক্ষ্য হল একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার‑সহায়িত ডিজাইন স্যুট তৈরি করা, যেখানে অণু নকশা, সিমুলেশন এবং প্রারম্ভিক টেস্টিং এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হবে। এই স্যুটের মাধ্যমে গবেষকরা হাতে লিখিত নোট বা আলাদা সফটওয়্যার টুলের পরিবর্তে একক ইন্টারফেসে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে ড্রাগ ডেভেলপমেন্টের চক্র সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইলি লিলি একই সময়ে নভিডিয়া সঙ্গে এক বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা ঘোষণা করে, যেখানে সান ফ্রান্সিসকোর একটি কো‑ইনোভেশন ল্যাব গড়ে তোলা হবে। এই ল্যাবে বড় ডেটা, উচ্চ পারফরম্যান্স কম্পিউটিং এবং বৈজ্ঞানিক দক্ষতা একত্রিত হয়ে AI‑চালিত ড্রাগ ডিসকভারির গতি ত্বরান্বিত করবে। নভিডিয়ার GPU প্রযুক্তি ও ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার চাই ডিসকভারির অ্যালগরিদমের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও জটিল মডেল প্রশিক্ষণ সম্ভব হবে।

বায়োফার্মা শিল্পের কিছু প্রবীণ বিশেষজ্ঞ AI‑ভিত্তিক ড্রাগ ডিসকভারির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, কারণ ঐতিহ্যবাহী ওষুধ বিকাশের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত। তবে অন্যদিকে, বহু বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারী এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের ওষুধ গবেষণার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে ডেটা‑চালিত পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যয় কমিয়ে রোগীর জন্য দ্রুত থেরাপি সরবরাহে সহায়তা করবে।

চাই ডিসকভারির প্রধান বিনিয়োগকারী জেনারেল ক্যাটালিস্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এলেনা ভিবোচ উল্লেখ করেন যে, কোম্পানির প্রযুক্তি অণু নকশার পদ্ধতিতে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তিনি বলেন, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলো গবেষকদের সৃজনশীলতা ও বৈজ্ঞানিক অন্তর্দৃষ্টিকে প্রযুক্তির সঙ্গে মিশিয়ে নতুন থেরাপি আবিষ্কারে ত্বরান্বিত করবে। জেনারেল ক্যাটালিস্টের সমর্থন চাই ডিসকভারির বৃদ্ধির জন্য আর্থিক ও নেটওয়ার্ক উভয় দিকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সারসংক্ষেপে, চাই ডিসকভারির ইলি লিলি ও নভিডিয়ার সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগগুলো AI‑চালিত ড্রাগ ডিসকভারির ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। যদি অ্যালগরিদমের নির্ভুলতা ও স্কেলেবিলিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে, তবে ভবিষ্যতে রোগীর জন্য নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধের বিকাশের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এই প্রবণতা বায়োফার্মা শিল্পের গবেষণা পদ্ধতিকে রূপান্তরিত করে রোগীর জীবনমান উন্নতিতে অবদান রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments