২৪ বছর বয়সী নিকোলাস মোর, টেনেসির স্প্রিংফিল্ডের বাসিন্দা, যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্রিম কোর্টের ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট ফাইলিং সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। মোরের অপরাধের পরিসর সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথিতে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি কেবল সাপ্রিম কোর্ট নয়, আমেরিকোর্প এবং ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের নেটওয়ার্কেও অনুপ্রবেশ করেছিলেন। এই নথি প্রথমে কোর্ট ওয়াচের সিয়ামাস হিউজের নজরে আসে এবং এতে হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি ও শিকারদের তথ্যের বিশদ উল্লেখ রয়েছে।
মোরের হ্যাকিংয়ের পদ্ধতি ছিল চুরি করা ব্যবহারকারীর পরিচয়পত্র ব্যবহার করা, যা তাকে অনুমোদিত অ্যাক্সেস প্রদান করেছিল। তিনি শিকারের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করেন এবং কিছু অংশ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @ihackthegovernment-এ প্রকাশ করেন। এই কাজের ফলে শিকারের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে এবং তথ্যের অপব্যবহার ঘটেছে।
সাপ্রিম কোর্টের শিকারের পরিচয় নথিতে “GS” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোর তার নাম এবং বর্তমান ও পূর্বের ইলেকট্রনিক ফাইলিং রেকর্ড উন্মোচন করেন, যা আদালতের গোপনীয় নথি হিসেবে বিবেচিত। এই তথ্যের প্রকাশ কোর্টের সিকিউরিটি সিস্টেমের দুর্বলতা প্রকাশের পাশাপাশি শিকারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
আমেরিকোর্পের শিকারের পরিচয় “SM” হিসেবে চিহ্নিত। মোর তার নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর, নাগরিকত্বের অবস্থা, ভেটেরান স্ট্যাটাস, সেবা ইতিহাস এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের শেষ চারটি অংকসহ বিস্তৃত তথ্য প্রকাশ করেন। এই ধরনের তথ্যের প্রকাশ শিকারের পরিচয় চুরি এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের শিকারের পরিচয় “HW” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোর HW-এর MyHealtheVet অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য, যার মধ্যে প্রেসক্রাইব করা ওষুধের তালিকা অন্তর্ভুক্ত, প্রকাশ করেন। এই ধরণের স্বাস্থ্য তথ্যের লিকেজ রোগীর গোপনীয়তা ও চিকিৎসা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
মোরের এই কাজের ফলে তিনি সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দশ লাখ ডলারের জরিমানা হতে পারে। আদালত এখন শিকারের ক্ষতিপূরণ এবং তথ্য পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারে। শিকারের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
এই মামলায় আদালত ভবিষ্যতে কীভাবে শিকারের তথ্য পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে তা নির্ধারণ করবে। শিকারের পক্ষ থেকে তথ্যের অপব্যবহার রোধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি তথ্য নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
সাপ্রিম কোর্ট, আমেরিকোর্প এবং ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের আইনি দলগুলি ইতিমধ্যে এই হ্যাকিংয়ের প্রভাব মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালতের রায়ের পর শিকারের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতির ওপর আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সরকারি নেটওয়ার্কে প্রবেশের পদ্ধতি ও ব্যবহারকারীর পরিচয়পত্রের সুরক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে সংবেদনশীল তথ্যের রক্ষা করতে বহুমাত্রিক প্রমাণীকরণ এবং নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন অপরিহার্য।
মোরের মামলায় আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা চললেও, ইতিমধ্যে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে শিকারের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি শিকারের তথ্য পুনরুদ্ধার, ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যৎ হ্যাকিং প্রতিরোধে ত্বরান্বিত কাজ চালিয়ে যাবে।



