জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দলটি তাদের সঙ্গে মতমত ভাগ করে নিতে ইচ্ছুক সমর্থকদের ওপরই নির্বাচনী অভিযান চালাবে। একই সময়ে তিনি রাজধানীর উত্তরায় ঘটিত অগ্নিকাণ্ডে শোক প্রকাশ করে, দুঃখজনক ঘটনার জন্য গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দশটি দল একত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলাদা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে আদর্শিক পার্থক্য রয়েছে, এনসিপি এখনও ঐ দলকে জোটে ফিরিয়ে আনার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।
আসিফ মাহমুদ জোর দিয়ে বলেছিলেন, দলটি কেবলমাত্র তাদের সঙ্গে একমত হতে ইচ্ছুক সমর্থকদের ওপরই প্রচারণা কেন্দ্রীভূত করবে, ফলে জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণের জন্য আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ময়মনসিংহে এক প্রার্থীর অনুসারীকে লক্ষ্য করে হামলা ঘটার পর, এনসিপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে, বিএনপি প্রার্থীর রিটকারীর ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে, নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের আইনের আওতায় আনার দাবি তীব্র করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে আরেকটি প্রার্থীর ওপর হামলা ঘটার পর, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়। নির্বাচনের সময় সকল প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হিংসা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে দলটি দাবি করে।
দশ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে, এনসিপি জনগণের ম্যান্ডেটের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে দলটি উল্লেখ করে, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা জানায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, এনসিপি স্পষ্ট করে জানায় যে, ঐ দলটি নিজের আদর্শিক কারণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় এনসিপির কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তবে, ইসলামী আন্দোলনের জন্য জোটে পুনরায় যুক্ত হওয়ার দরজা এখনও খোলা রয়েছে।
আসিফ মাহমুদের মতে, জোটের মধ্যে চলমান আলোচনাগুলি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জোটের অভ্যন্তরে সমন্বয় বজায় রেখে, নির্বাচনী প্রচারণা কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সকল দলের সহযোগিতা প্রয়োজনীয় বলে জোর দেন।
প্রেস কনফারেন্সে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এনসিপি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ও সমর্থন চায়।
সামগ্রিকভাবে, এনসিপি জোটের অংশীদারিত্ব, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দলটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন এবং সুষ্ঠু প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



