লরেন মেয়ারিং‑এর রচনায় তৈরি ড্রামেডি ‘হর্সগার্লস’ শীঘ্রই উত্তর আমেরিকায় থিয়েটার স্ক্রিনে আসবে। সুমেরিয়ান পিকচার্স এই ছবির উত্তর আমেরিকান বিতরণ অধিকার অর্জন করেছে এবং বছরের শেষের দিকে সমগ্র দেশে প্রদর্শনের পরিকল্পনা করেছে। ছবিটি প্রথমবারের মতো বড় স্ক্রিনে দেখা যাবে, যা মেয়ারিং‑এর পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
চিত্রের প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নবীন লিলিয়ান ক্যারিয়ার, যিনি ‘এভরিথিংস গোনা বি ওকে’‑এ পরিচিতি পেয়েছেন, এবং গ্রীচেন মোল, যিনি ‘আমেরিকান গিগলো’‑এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। জেরড হেইনেস এবং টনি হেলেও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে উপস্থিত, যা কাস্টকে বহুমুখী ও সমৃদ্ধ করে তুলেছে। প্রতিটি অভিনেতা তাদের নিজস্ব শৈলীতে চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করে, ফলে গল্পের আবেগময় গতি ত্বরান্বিত হয়।
লরেন মেয়ারিং‑এর জন্য ‘হর্সগার্লস’ পরিচালনায় প্রথম পদক্ষেপ, যদিও তিনি স্ক্রিপ্ট লেখক হিসেবে বহু বছর কাজ করে আসছেন। ২০২০ সালের ব্ল্যাক লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই চিত্রনাট্যটি মেয়ারিং‑এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রযোজক ম্যাকেনজি ব্রিডেনের পারিবারিক জীবনের উপর ভিত্তি করে রচিত। বন্ধুত্বের গভীরতা ও পারিবারিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা স্ক্রিপ্টে স্বাভাবিকভাবে ফুটে উঠেছে, যা দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
প্রযোজনা দায়িত্বে আছেন ম্যাকেনজি ব্রিডেন, অ্যালিক্স মাডিগান এবং মাইকেল শেরম্যান। তিনজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছবির গুণগত মান ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উভয়ই নিশ্চিত করেছে। প্রযোজকরা ছবির থিম ও বার্তাকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন, ফলে চলচ্চিত্রটি সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বার্তা বহন করে।
‘হর্সগার্লস’ প্রথমবারের মতো ট্রিবেকা ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয় এবং সেখান থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়। পরবর্তীতে সিয়াটল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও কর্ডিলেরা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জয় করে, যা ছবির শিল্পগত মূল্যকে আরও দৃঢ় করে। এই স্বীকৃতি চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছে।
মেয়ারিং ছবির মুক্তি ও সুমেরিয়ান পিকচার্সের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুমেরিয়ান পিকচার্সের অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক বার্তার প্রতি সমর্থন ছবির লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সহযোগিতা চলচ্চিত্রকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদী।
সুমেরিয়ান পিকচার্সের কন্টেন্ট স্ট্রাটেজি প্রধান রব উইলিয়ামসও ছবির গুণগত দিকের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘হর্সগার্লস’ একটি মধুর ও আবেগময় শক্তি সম্পন্ন কাজ, যেখানে প্রতিটি পারফরম্যান্স উজ্জ্বল। এই চলচ্চিত্রকে থিয়েটার জগতে নিয়ে আসতে তারা গর্বিত এবং দর্শকদের সঙ্গে এই গল্প ভাগ করে নিতে উদগ্রীব।
গ্রীচেন মোলের জন্য ‘হর্সগার্লস’ ছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অপেক্ষা করছে। তিনি পারামাউন্ট+ সিরিজ ‘টুলসা কিং’‑এর চতুর্থ সিজনে সিলভেস্টার স্ট্যালোনের সঙ্গে প্রধান চরিত্রে যোগ দেবেন। এই সিরিজের নতুন সিজনটি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে এবং মোলের পারফরম্যান্সকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।
সুমেরিয়ান পিকচার্সের এই চুক্তি ইউটিএ ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা করে সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই ছবির প্রচার ও বিতরণে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এই সহযোগিতা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘হর্সগার্লস’ শীঘ্রই উত্তর আমেরিকায় বড় পর্দায় প্রদর্শিত হবে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সমালোচকদের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সুমেরিয়ান পিকচার্সের বিতরণ নেটওয়ার্ক ও মেয়ারিং‑এর সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি একত্রে ছবির সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলবে। চলচ্চিত্রের থিম, কাস্ট এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত ইতিহাস একত্রে দর্শকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।



