ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই সম্প্রতি গোপন স্থানে লুকিয়ে আছেন; যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতিবাদকারীদের সমর্থনে কী পদক্ষেপ নিতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি ছিল কুয়াসেম সোলেইমানি, যিনি ৩ জানুয়ারি ২০২০-এ বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি ড্রোন হামলায় নিহত হন, যা ট্রাম্পের সরাসরি আদেশে সম্পন্ন হয়েছিল। দ্বিতীয়টি ছিল আবু বকর আল‑বাগদাদি, যিনি ২৭ অক্টোবর ২০১৯-এ উত্তর সিরিয়ার একটি গুহা থেকে আত্মবোমা বিস্ফোরণে নিজে ও দুই শিশুকে হত্যা করেন, যখন মার্কিন সেনা তার গোপন ঘাঁটি ধ্বংসের জন্য আক্রমণ চালায়।
ইরানের প্রতিবেশী লেবাননের হেজবোল্লা নেতা হাসান নাসরাল্লা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত হন। তিনি বেইরুতের একটি উঁচু বাসাবাড়ির নিচে, প্রায় ষাট ফুট গভীরতায়, শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করার সময় আঘাতপ্রাপ্ত হন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারাকাসে একটি দ্রুতগতি অপারেশনও ঘটেছে, যেখানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনা ট্রাম্পের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরে চলমান প্রতিবাদ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। যদি সুপ্রিম লিডারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা প্রতিবাদকারীদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখনও অজানা।
ট্রাম্প বর্তমানে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন। তিনি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ, লক্ষ্যবস্তু অপারেশন বা আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের শাসন কাঠামোকে দুর্বল করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে কোন পদক্ষেপই চূড়ান্ত নয় এবং তা বাস্তবায়নের আগে বহু স্তরের বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
খামেনেইকে দেশের অধিকাংশ নাগরিকের কাছ থেকে ঘৃণার মুখে দেখা যায়। গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদকারীরা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, তার শাসনব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা খারাপ করে তুলেছে।
খামেনেইয়ের শাসনকাল ৩৬ বছর ধরে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নামের নিচে চলে আসছে। এই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি কঠোর বিরোধী নীতি অনুসরণ করেছেন এবং রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে নিয়েছেন। তার নীতি দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে।
পারমাণবিক ক্ষেত্রে তার নীতি অর্ধপরিপূর্ণ বলে সমালোচিত হয়েছে। যদিও ইরান পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনের দিকে অগ্রসর হয়েছে, তবু আন্তর্জাতিক চুক্তি ও পর্যবেক্ষণ সংস্থার সঙ্গে তার সম্পর্ক অনিশ্চিত রয়ে গেছে। এই অস্থিরতা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের সুপ্রিম লিডারকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে খামেনেইয়ের ভবিষ্যৎ ও দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ আন্দোলনের দিকনির্দেশনা এখনও স্পষ্ট নয়, যা ভবিষ্যতে কীভাবে বিকশিত হবে তা নজরে রাখতে হবে।



