জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাগিদ দেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোটকে ইতিবাচক দিকনির্দেশে ব্যবহার করা উচিত।
সমাবেশটি ফতুল্লা এস বি গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে শহীদ আদিলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ভক্ত, এনসিপি কর্মী এবং স্থানীয় নেতারা হাসনাতের কথা শোনার জন্য একত্রিত হয়। সমাবেশের পরিবেশটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ ছিল, যেখানে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
হাসনাতের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল তরুণদের প্রথম ভোটকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের পথে চালিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী) দেশের ভবিষ্যৎকে প্রতিনিধিত্বকারী একটি সন্তান এবং তার সাফল্য নিশ্চিত করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। এভাবে তিনি ভোটের মাধ্যমে তরুণদের রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ জোরদার করার চেষ্টা করেন।
অধিকন্তু, তিনি দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পরিবর্তনের দাবি করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা জরুরি, যা নাগরিকদের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত জীবনযাপন নিশ্চিত করবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উপস্থাপন করেন।
হাসনাতের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মন্তব্য ছিল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে। তিনি তীব্রভাবে সমালোচনা করেন যে, কিছু সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একে অপরের পায়ে সালাম করে কাজ করেন, যা শাসনব্যবস্থার স্বতন্ত্রতা ও স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করে। তিনি এ ধরনের প্রথা থেকে মুক্ত একটি শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে এনসিপি-র নারায়ণগঞ্জ‑৪ (ফতুল্লা) আসনের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনও উপস্থিত ছিলেন। আল আমিনের সঙ্গে হাসনাত একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান, যেখানে উভয়ই তরুণ ভোটারদের সমর্থন ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আল আমিনের উপস্থিতি সমাবেশকে আরও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমৃদ্ধ করে।
এই প্রচারণা কার্যক্রমে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এনসিপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারা হাসনাত ও আল আমিনের সঙ্গে মিলে সমাবেশের পরিকল্পনা, সংগঠন ও ভোটার সংযোগের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এনসিপি-র এই অঞ্চলে ভোটাভুটি সংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনার সূচক হিসেবে দেখা যায়।
সমাবেশের সময় শহীদ আদিলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎও উল্লেখযোগ্য। পরিবারটি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগের একটি সেতু হিসেবে কাজ করেছে এবং সমাবেশের সামাজিক দিককে জোরদার করেছে। এই ধরনের মানবিক সংযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
হাসনাতের এই আহ্বান দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এনসিপি-র ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা দেশের অন্যান্য দলগুলোর নীতি ও কৌশলের সঙ্গে তুলনা করা হলে, তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। তবে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি তরুণ ভোটাররা সত্যিই ‘হ্যাঁ’ ভোটের দিকে ঝুঁকে যায়, তবে এটি এনসিপি-র নির্বাচনী ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং এনসিপি-র এই প্রচারণা ভোটার সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



