বিনোদন জগতের আলোচনায় নতুন শিরোনাম যোগ হয়েছে কঙ্গনা রণাউত‑নির্দেশিত ‘ইমার্জেন্সি’ চলচ্চিত্রের। ১৯ জানুয়ারি সিসিটিভি অনুমোদন পেয়ে ১৭ জানুয়ারি দেশের সব থিয়েটারে প্রদর্শিত হওয়া শুরু হওয়া ছবিটি, ১৯৭৫‑৭৭ সালের ভারতীয় জরুরি অবস্থার ঘটনাবলি তুলে ধরতে চায়। তবে পাঞ্জাবের কিছু শহরে সিখ সম্প্রদায়ের বিরোধের কারণে ছবির প্রদর্শন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সেন্সর বোর্ডের অনুমোদনের পর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, শ্রীগুরু গ্রন্থাগার পারিষদ (এসজিপিসি) ছবিটিকে সিখ সম্প্রদায়ের মানহানি হিসেবে বিবেচনা করে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়েছে। এসজিপিসি ছবির কাহিনীতে সিখ ধর্মের প্রতি অসম্মানজনক উপস্থাপন রয়েছে বলে দাবি করে, ফলে থিয়েটারগুলোতে প্রদর্শন বন্ধের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পাঞ্জাবের কয়েকটি শহরে থিয়েটার পরিচালনাকারীরা ছবির শো রোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, কিছু সিনেমা হলের মালিক ও কর্মচারী এসজিপিসি‑এর চিঠি ও সামাজিক চাপের মুখে ছবিটি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে ‘ইমার্জেন্সি’ চলচ্চিত্রের দর্শকসংখ্যা পাঞ্জাবের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় কঙ্গনা রণাউত টুইটার (এখন এক্স) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট শেয়ার করে দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি উল্লেখ করেন, পাঞ্জাবের বহু শহরে শিল্পকর্ম ও শিল্পীর ওপর আক্রমণমূলক আচরণ দেখা যাচ্ছে, যা ছবির প্রদর্শনকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ শিল্পের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং তার কাজের প্রতি অন্যায় চাপ সৃষ্টি করে।
কঙ্গনা রণাউত তার পোস্টে সকল ধর্মের প্রতি সম্মান প্রকাশের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, চণ্ডীগড়‑এ বড় হয়ে সিখ ধর্মের রীতি‑নীতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, ফলে তিনি সিখ সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমঝোতা রাখেন। তিনি যুক্তি দেন, এসজিপিসি‑এর অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তার ব্যক্তিগত ও চলচ্চিত্রের সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রচারিত হচ্ছে।
তার পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “এটি শিল্প ও শিল্পীর প্রতি সম্পূর্ণ হয়রানি, পাঞ্জাবের বহু শহরে এই মানুষগুলো ‘ইমার্জেন্সি’ প্রদর্শন বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমি সব ধর্মের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রাখি এবং চণ্ডীগড়‑এ বেড়ে ওঠার সময় সিখ ধর্মের রীতিনীতি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেছি। এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আমার ছবি ও ব্যক্তিত্বকে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টা।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমালোচনামূলক মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
কঙ্গনার পোস্টের পরই কংগ্রেসের বিধায়ক সুখপাল সিং খাইরা এক্স‑এ একটি মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি এসজিপিসি‑এর ছবিটি নিষিদ্ধ করার দাবিকে সমর্থন জানান। তিনি ছবির পরিচালককে কৃষক আন্দোলনের সমালোচক হিসেবে উল্লেখ করে, ছবিটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সুখপাল সিং খাইরার মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এসজিপিসি‑এর ‘ইমার্জেন্সি’ নিষিদ্ধের দাবিকে সমর্থন করছি, কারণ এই চলচ্চিত্রটি আমাদের সমাজের সংবেদনশীল বিষয়গুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।” তার এই পোস্টটি কঙ্গনা রণাউতের পোস্টের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হয়ে বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে।
বহু রাজ্যে ছবিটি এখনও স্বাভাবিকভাবে চলমান। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা ও অন্যান্য প্রধান শহরে থিয়েটারগুলোতে শো চলতে থাকায় দর্শকরা ছবির ঐতিহাসিক দিকগুলোকে প্রশংসা করছেন। তবে পাঞ্জাবের সীমাবদ্ধতা ছবির বক্স অফিসে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সেখানকার সিখ জনসংখ্যার বড় অংশের কারণে।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কিছু দর্শক চলচ্চিত্রের ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণকে সঠিকভাবে উপস্থাপন বলে প্রশংসা করেন, অন্যদিকে কিছু সিখ সম্প্রদায়ের সদস্য ছবির কিছু দৃশ্যকে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী বলে উল্লেখ করেন। সামাজিক মিডিয়ায় উভয় দিকের মন্তব্যের সংখ্যা সমানভাবে বেড়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বর্তমানে কোনো আদালতের আদেশ বা সরকারী নিষেধাজ্ঞা নেই। শুধুমাত্র এসজিপিসি‑এর আপত্তি ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সমর্থনই ছবির পাঞ্জাবীয় প্রদর্শন বন্ধের মূল কারণ। তাই ছবির মুক্তি ও প্রদর্শন সংক্রান্ত কোনো বাধা এখনো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
এই পরিস্থিতি শিল্পের স্বাধীনতা ও সম্প্রদায়ের সংবেদনশীলতার মধ্যে সূক্ষ্ম সমতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরছে। পাঞ্জাবের থিয়েটারগুলোতে শো পুনরায় শুরু হবে কিনা, তা আগামী সপ্তাহের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিবিধির ওপর নির্ভর করবে। শিল্পী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার জন্য আরও সংলাপের প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।



