28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকগ্রিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক আক্রমণাত্মক রেটোরিকের প্রতিক্রিয়া

গ্রিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক আক্রমণাত্মক রেটোরিকের প্রতিক্রিয়া

গ্রিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্টিক অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা প্রকাশকারী রেটোরিক, বিশেষ করে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখের সঙ্গে, এই সংগ্রামকে তীব্রতর করেছে।

গ্রিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র প্রযোজক ইনুক জর্গেনসেনের মতে, বহু গ্রিনল্যান্ডীয় নাগরিকের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রেটোরিকের তীব্রতা বাড়ার ফলে জনগণের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও দেশীয় স্তরে ঐক্য রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কমাতে ব্যর্থ হয়। বৈঠকের পরপরই ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো দ্রুত সমর্থন প্রকাশ করে, ডেনমার্কের নেতৃত্বে ‘অপারেশন আর্টিক এন্ডুরেন্স’ নামে যৌথ সামরিক অনুশীলনের অংশ হিসেবে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে এবং সুইডেনের সেনাবাহিনী গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হয়।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ন্যাটোকে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা একটি যৌথ উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক নীতি নিয়ে মৌলিক মতবিরোধের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের ওপর আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষা এখনও বিদ্যমান এবং তা গুরুতর বিষয়, ফলে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ নিতে না দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

নুক শহরে এই রকম রেটোরিকের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত ডকুমেন্টারি ‘সুমে: দ্য সাউন্ড অফ এ রেভোলিউশন’ এবং টেলিভিশন সিরিজ ‘হিস্ট্রি অফ গ্রিনল্যান্ড অ্যান্ড ডেনমার্ক’ এর পরিচালক ইনুক সিলিস হোগ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত পুনরায় দেন, তখন জনগণের মনোভাবের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এই ধরনের মন্তব্যের ফলে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্লান্তি বাড়ছে।

গ্রিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র সম্প্রদায়ের জন্য এই রাজনৈতিক উত্তেজনা কেবল আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং তাদের সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসন ও শিল্পের ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গল্পকে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করার জন্য লড়াই করে আসছেন; এখন এই লড়াইকে আন্তর্জাতিক শক্তির কূটনৈতিক ও সামরিক চালচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

অপারেশন আর্টিক এন্ডুরেন্সের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ডেনমার্ক ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো যৌথ প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাবে, যা গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলবে। একই সঙ্গে, ডেনমার্কের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

গ্রিনল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে তাদের সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারা জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভূমি ও সংস্কৃতি তাদেরই, এবং কোনো বহিরাগত শক্তি তা পরিবর্তন করতে পারবে না।

এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হবে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনার সূচনা, পাশাপাশি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর যৌথ সামরিক অনুশীলনের ফলাফল। উভয় পক্ষই গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসনকে কেন্দ্র করে সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করবে, যা আর্কটিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments