সিলেটের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম শুক্রবার দুপুরে হ্যাঁ ভোটের প্রচারকে সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের ফলাফল নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট করে জনমত গঠন করা জরুরি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্য কর্মী। এ সভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত হয়।
নূরজাহান বেগমের মতে, যারা ভোটের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে, তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে ভোট না হওয়ার জন্য। তাই সরকারকে যত বেশি মানুষকে ভোটের গুরুত্বে যুক্ত করতে হবে, ততই বিরোধী শক্তি দুর্বল হবে।
তিনি গুজবের দ্রুত মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। গুজব শোনা মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে ভুল তথ্য প্রকাশ করে সংশোধন করা উচিত, যাতে জনগণ সঠিক তথ্য পায় এবং উদ্বেগ কমে।
উপদেষ্টা জানান, ভোটে অংশগ্রহণ বাড়লে অশুভ শক্তি পিছিয়ে যাবে। তিনি সতর্ক করেন, বিরোধী গোষ্ঠী যখন সামনে আসে, তখন তারা অশান্তি ও তাণ্ডবের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তবে তা ভয় না পেয়ে মোকাবিলা করা দরকার।
১২ জানুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনে পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভোট কাস্টিং বেশি হতে পারে, এ কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশাবাদী যে দেশ রেকর্ড ভাঙা ভোটার উপস্থিতি অর্জন করবে এবং ইতিহাসের অন্যতম সফল নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
নূরজাহান বেগমের বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে, সরকার গণভোটের জন্য হ্যাঁ ভোটের প্রচারকে নীতিগত দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নে সকল স্তরের কর্মকর্তাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কিছু গোষ্ঠী এখনও ভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং গুজব ছড়িয়ে ভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। এ ধরনের প্রচেষ্টা সরকারকে দ্রুত তথ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়া দিয়ে দমন করতে হবে।
সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভা, ভোটার সচেতনতা বাড়াতে এবং গুজবের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেছে। এতে তথ্য প্রচার, সেমিনার এবং মিডিয়া ক্যাম্পেইন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উল্লেখযোগ্য যে, নূরজাহান বেগমের মন্তব্যে ভোটের সময়সূচি, ভোটার তালিকা এবং ভোটার সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, তবে তিনি ভোটারদের নিবন্ধন ও অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই সভা নির্বাচন কমিশনের কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে গণভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
অবশেষে, নূরজাহান বেগম আশা প্রকাশ করেন, জনগণের বৃহৎ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অশুভ শক্তি পেছনে হটে যাবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।



