বৈশ্বিক বাজারে বিস্তৃত পোর্টফোলিও নিয়ে কাজ করা এ সি আই লিমিটেড (ACI Ltd) বৃহস্পতিবার বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর সম্পত্তি ও সেমিকন্ডাক্টর দুইটি নতুন শাখা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা জানায়। এ শাখাগুলোকে যথাক্রমে এ সি আই প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এ সি আই সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড নামে গঠন করা হবে।
এ সি আই গ্রুপ বর্তমানে ১৭টি সাবসিডিয়ারি এবং পাঁচটি যৌথ উদ্যোগ পরিচালনা করে। নতুন শাখাগুলোর জন্য অনুমোদিত মূলধন প্রত্যেকটি ১০০ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে ১০ কোটি টাকা পেইড‑আপ ক্যাপিটাল হিসেবে গৃহীত হবে।
শেয়ার কাঠামোতে এ সি আই ৮৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব রাখবে, বাকি ১৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পরে নির্ধারিত হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শাখার গঠন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে না।
গ্রুপের পাঁচটি কৌশলগত ব্যবসা ইউনিট রয়েছে: স্বাস্থ্য, ভোক্তা সেবা, কৃষি ব্যবসা, মোটরসাইকেল ও গাড়ি সেক্টর। এই ইউনিটগুলোতে এ সি আই ইতিমধ্যে শক্তিশালী বাজার উপস্থিতি গড়ে তুলেছে এবং নতুন শাখাগুলোকে এই ভিত্তির ওপর সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে দেখছে।
সম্পত্তি শাখা গঠন করে এ সি আই রিয়েল এস্টেট বাজারে প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দেশের নগরায়ন ও আবাসিক চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সেক্টরে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। এ সি আই প্রপার্টিজ লিমিটেডের মূলধন কাঠামো দেখায় যে কোম্পানি বড় প্রকল্পে অংশ নিতে সক্ষম হবে, যদিও প্রকল্পের স্কেল ও অবস্থান এখনো প্রকাশিত হয়নি।
সেমিকন্ডাক্টর শাখা গঠন দেশের উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে স্বদেশি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর চেইনের ঘাটতি ও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনা করে এ সি আই এই সেক্টরে প্রবেশের মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল সংহত করতে চায়। অনুমোদিত মূলধন ও শেয়ার কাঠামো একই রকম হওয়ায় উভয় শাখা সমান আর্থিক ভিত্তিতে শুরু হবে বলে ধারণা করা যায়।
আর্থিক দিক থেকে এ সি আই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৃতীয় ধারাবাহিক ক্ষতি রিপোর্ট করেছে, যা গ্রুপের সামগ্রিক লাভজনকতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে কোম্পানি লাভের সূচনা করেছে, যা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। এই পরিবর্তন শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নতুন শাখার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহে সহায়ক হতে পারে।
বাজারে এ সি আইয়ের এই পদক্ষেপকে একটি কৌশলগত বৈচিত্র্যকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্পত্তি ও সেমিকন্ডাক্টর উভয়ই উচ্চ মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদী রিটার্নের সেক্টর, যা গ্রুপের ঝুঁকি প্রোফাইলকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে। তবে নতুন শাখার সফলতা নির্ভর করবে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি এবং বাজারের চাহিদার ওপর।
সারসংক্ষেপে, এ সি আই লিমিটেডের সম্পত্তি ও সেমিকন্ডাক্টর শাখা গঠন কোম্পানির ব্যবসা পোর্টফোলিওকে বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনুমোদিত মূলধন ও শেয়ার কাঠামোর ভিত্তিতে উভয় শাখা সমান আর্থিক শক্তি পাবে, এবং গ্রুপের সাম্প্রতিক লাভজনকতা পুনরুদ্ধার নতুন উদ্যোগকে সমর্থন করবে বলে আশা করা যায়। তবে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঝুঁকি বজায় থাকবে, যা শেয়ারহোল্ডার ও বাজারের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে।



