মিশেল পফিফার এবং কার্ট রাসেল প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা নতুন টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য ম্যাডিসন’ আগামী শনিবার, ১৪ মার্চ, পারামাউন্ট+-এ প্রথমবার সম্প্রচারিত হবে। সিরিজটি টেলর শেরিডানের ‘ইয়েলোস্টোন’ মহাবিশ্বের অংশ হিসেবে পরিচিত হয়েছে।
‘দ্য ম্যাডিসন’ হল ‘ইয়েলোস্টোন’ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের একটি নতুন শাখা, যেখানে পূর্বের সিরিজের ঘটনাবলীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না থাকলেও একই পরিবারিক থিম বজায় রয়েছে। শেরিডান এই প্রকল্পকে তার সর্বাধিক অন্তর্মুখী কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রিমিয়ার তারিখের পাশাপাশি প্রথম দৃশ্যের কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যা সিরিজের ভিজ্যুয়াল টোনের ইঙ্গিত দেয়। ছবিগুলোতে মনোমুগ্ধকর মন্টানা প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং নিউ ইয়র্কের উজ্জ্বল শহুরে পরিবেশের মিশ্রণ দেখা যায়।
সিরিজের মূল থিমকে ‘শোক ও মানবিক সংযোগের হৃদয়স্পর্শী অনুসন্ধান’ এবং ‘প্রতিবন্ধকতা ও রূপান্তরের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গভীর প্রেমের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারিক নাটকের মাধ্যমে মানবিক সহনশীলতা এবং পরিবর্তনের শক্তি তুলে ধরা হবে।
কাহিনীটি মন্টানার মাঝামাঝি অবস্থিত ম্যাডিসন রিভার ভ্যালিতে বসবাসকারী সিএলিবার্ন পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত শহরের পটভূমি দুইটি পৃথক জগতের মধ্যে সেতু গড়ে তুলবে, যা পরিবারকে একত্রে বাঁধে।
সিএলিবার্ন পরিবারের প্রধান চরিত্রে মিশেল পফিফার মেট্রিক্সের মাতা ভূমিকায় উপস্থিত থাকবেন। তার চরিত্রকে দৃঢ় ও সহানুভূতিশীল মায়ের রূপে চিত্রিত করা হয়েছে, যিনি পরিবারকে কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেন।
কর্ত রাসেল সিরিজে পফিফারের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যেখানে তিনি পরিবারের পিতৃসুলভ ভূমিকা পালন করবেন। দুজনের পারস্পরিক ক্রিয়া গল্পের আবেগময় স্তরে গভীরতা যোগ করবে।
সহায়ক ভূমিকায় বু গ্যারেট, এল চ্যাপম্যান, প্যাট্রিক জে. অ্যাডামস, আমিয়া মিলার, আলাইনা পোলাক, বেন শ্নেটজার, কেভিন জেগার্স, রেবেকা স্পেন্স, ড্যানিয়েল ভাসিনোভা এবং ম্যাথিউ ফক্সের মতো পরিচিত নামগুলো যুক্ত হয়েছে। প্রত্যেকের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য গল্পে নতুন রঙ যোগ করবে।
প্রথম মৌসুমে মোট ছয়টি পর্ব থাকবে, যা পরিবারিক নাটকের ধারা ধরে রাখবে এবং দর্শকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংযোগ গড়ে তুলবে। প্রতিটি পর্বে মন্টানা ও নিউ ইয়র্কের পারস্পরিক প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
পারামাউন্ট+ এই সিরিজকে শেরিডানের ‘এখন পর্যন্তের সবচেয়ে অন্তর্মুখী কাজ’ বলে বর্ণনা করেছে। সিরিজটি বর্তমান সময়ে দুইটি ভিন্ন পরিবেশ—মন্টানার প্রশান্তি ও ম্যানহাটনের উচ্ছ্বাস—এর মধ্যে ঘটবে, যা পরিবারিক বন্ধনের জটিলতা উন্মোচন করবে।
‘দ্য ম্যাডিসন’ ‘ইয়েলোস্টোন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন দিক উন্মোচন করে, যদিও মূল সিরিজের শেষের পরেও ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রাণ এখনও তেজে ভরপুর। নতুন শোটি ফ্যানদের জন্য অতিরিক্ত কন্টেন্ট সরবরাহের পাশাপাশি মূল গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির বর্তমান সময়ের ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে দুটি সিরিজ রয়েছে: সিবিএসের ‘মার্শালস’, যেখানে লুক গ্রাইমস কায়স ডাটনের ভূমিকায় ফিরে আসছেন, এবং পারামাউন্ট+’র ‘ডাটন র্যাঞ্চ’ (কাজের শিরোনাম), যেখানে কেলি রিলি ও কোলে হাউসার যথাক্রমে বেথ ডাটন ও রিপ হুইলারের ভূমিকায় ফিরে আসবেন।
এই দুই শো এবং ‘দ্য ম্যাডিসন’ একসাথে ‘ইয়েলোস্টোন’ মহাবিশ্বের বিস্তৃত ক্যানভাস গড়ে তুলছে, যেখানে পূর্বের প্রিক্যুয়েল সিরিজগুলোর সঙ্গে নতুন গল্পের সেতু গড়ে তোলা হচ্ছে। ফ্যানদের জন্য এটি একটি সমৃদ্ধ, বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য ম্যাডিসন’ শেরিডানের সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং মিশেল পফিফার ও কার্ট রাসেলের শক্তিশালী অভিনয়কে একত্রিত করে নতুন গল্পের সূচনা করে। ১৪ মার্চের প্রিমিয়ার দর্শকদের জন্য একটি আবেগময় ও দৃষ্টিনন্দন যাত্রা নিশ্চিত করবে।



