নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কেরাবো চৌরাস্তায় আজ বিকেলে একটি চুরি প্রচেষ্টার সময় এক নারী গুলিতে নিহত হন। ৪৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম, স্থানীয় মুদি দোকানের মালিক ববুল দেওয়ানের স্ত্রী, বাড়িতে একা থাকাকালীন চোরকে ধরার চেষ্টা করেন। চোরকে গুলিতে গুলি করে গায়ে আঘাত হানার পর, স্থানীয় মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে।
পুলিশের মতে, গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজন ৩২ বছর বয়সী মেহেদি ইসলাম, যিনি মেসন হিসেবে কাজ করেন এবং একই উপজেলায় বসবাসরত মোস্তাফা মিয়ার পুত্র। মেহেদি সম্প্রতি ববুল দেওয়ানের নতুন বাড়িতে কাজ করছিলেন, যা মাত্র চার দিন আগে সম্পন্ন হয়েছিল। তিনি বাড়িতে কেউ না থাকলে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন চুরি করার চেষ্টা করেন, কিন্তু আমেনা বেগম তাকে দেখেন এবং গুলিতে গুলি করে।
গুলিতে গুলি করার পর, মেহেদি আমেনার গলা কেটে ফেলেন এবং তার চিৎকার শোনার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের বাসিন্দারা দৌড়ে এসে তাকে আটক করেন। আহত আমেনা দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে তার অবস্থার অবনতি দ্রুত ঘটে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আহত নারীর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোষ্ঠী রাগে উন্মাদ হয়ে মেহেদি ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয় মানুষ পুলিশ থেকে তাকে হস্তান্তর নেওয়ার পর, গলিতে তাকে গাড়িতে চেপে নিয়ে যাওয়ার সময়ই গুলিতে গুলি করে গড়িয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনকে পুলিশ অফিসারদের কাছ থেকে টেনে নিয়ে গলিতে নিক্ষেপ করা হয় এবং ইটের গুঁড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়।
পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সার্কেল ‘সি’ এর সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট মেহেদি ইসলাম, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনকে আটক করার চেষ্টা করেন, তবে গোষ্ঠীর আক্রমণে তিনি তা করতে পারেননি। তিনি জানান, গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনকে গোষ্ঠী দ্রুতই হত্যা করে এবং দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে।
গোষ্ঠী দ্বারা গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনের দেহ এবং গুলিতে গুলি করা নারীর দেহ দুটোই নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অটোপ্সি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অটোপ্সি ফলাফল এবং ঘটনার আইনি দিক নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশের মতে, গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনকে প্রথমে বাড়িতে বাঁধা হয় এবং চুরি ও গুলিতে গুলি করার অভিযোগে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়। তবে গুলিতে গুলি করা নারীর মৃত্যুর খবর শোনার পর, গোষ্ঠী দ্রুতই তাকে পুনরায় হাতে নেয় এবং গুলিতে গুলি করে হত্যা করে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলিতে গুলি করা দুজনের মৃত্যুর জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গোষ্ঠীকে গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনের হত্যায় জড়িত বলে শিকারের পরিবার এবং স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে গোষ্ঠীর আক্রমণ এবং গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনের দেহকে গলিতে নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়, যা জনমতকে আরও উত্তেজিত করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলিতে গুলি করা গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই দু’জনের মৃত্যুর পর, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। গোষ্ঠী দ্বারা গুলিতে গুলি করা সন্দেহভাজনের হত্যার আইনি দায়িত্ব নির্ধারণ এবং গুলিতে গুলি করা নারীর পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



