চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে মোট আয়‑ব্যয় হিসাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩,১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই বছর বন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্যাট, ট্যাক্স ও অন্যান্য কর‑বহির্ভূত আয় থেকে সরকারী কোষাগারে ১,৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৫.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
বন্দরের পরিচালনা বিভাগে মো. ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ২০২১ সাল থেকে রাজস্ব ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পাঁচ পঞ্জিকাবর্ষে মোট আয় ৫,৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, আর ব্যয় ২,৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ফলে প্রতি বছর গড়ে ১৩.০৮ শতাংশের গতি নিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ২১.৮৮ শতাংশের উঁচু বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়, যা এই সময়ের শীর্ষবিন্দু।
বন্দরের ব্যয়ও একই সময়ে গড়ে ৭.৫৯ শতাংশ হারে বেড়েছে, তবে ব্যয় বৃদ্ধির হার রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনায় কম থাকায় মুনাফা গড়ে ১৮.৪২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। পরিচালনা বিভাগের মুখ্য কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে এবং সেবার মান বজায় রেখে ব্যয় বৃদ্ধিকে এক অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে, ফলে দুই বছর ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব‑ব্যয় পার্থক্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বন্দরের আর্থিক ফলাফল দেশের অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। উচ্চ মুনাফা এবং বৃহৎ পরিমাণের সরকারী অবদান বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দক্ষতা ও নীতি বাস্তবায়নের ফলাফল, যা বন্দরকে দেশের প্রধান আয়ের উৎসের একটি হিসেবে শক্তিশালী করে। এছাড়া, বর্ধিত রাজস্বের মাধ্যমে সরকারী তহবিলের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বন্দরের আর্থিক অবদান বছরের পর বছর বৃদ্ধি পেতে থাকলে, ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ এবং বাণিজ্যিক চুক্তির পরিসর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সেবার মান উন্নয়নে অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, যাতে মুনাফার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায়।
বন্দরের পূর্ববর্তী বছরগুলোর অবদানও উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে ১,৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০২৩ সালে ১,৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১,৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১,১৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা সরকারী তহবিলে জমা হয়েছে। এই পাঁচ বছরের সমষ্টি ৭,৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি, যা দেশের রাজস্ব কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৫ সালে অর্জিত সর্বোচ্চ মুনাফা এবং সরকারী তহবিলে বৃহৎ অবদান দেশের বাণিজ্যিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক সংকেত প্রদান করে। ভবিষ্যতে ব্যয়‑নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং সেবার মান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে, বন্দর আরও উচ্চতর আর্থিক সাফল্য অর্জন করতে পারে।



