ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন ইন্টারিম হেড কোচ মাইকেল ক্যারিক রয় কেনের স্ত্রী লিসা ক্যারিকের সম্ভাব্য টিম টক মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে, তার কাজের ওপর মনোযোগ দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ক্যারিকের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি কোনো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন না এবং দলের সাফল্যই তার প্রধান লক্ষ্য। এই বিবৃতি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, আগামী শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যানচেস্টার ডার্বি তার দ্বিতীয় ইন্টারিম কোচিং মেয়াদে প্রথম ম্যাচ হবে।
রয় কেনে, যিনি পূর্বে ইউনাইটেডের একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে লিসা ক্যারিকের সম্ভাব্য টিম টক করার কথা উল্লেখ করে রসিকতা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “তার স্ত্রী কখনো কখনো মুখে বড় কথা বলতে পারেন, হয়তো তিনি টিম টক দিচ্ছেন।” এই মন্তব্যটি ২০১৪ সালে ক্যারিক এবং কেনের মধ্যে ঘটিত তর্কের স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন কেনে ক্যারিকের পারফরম্যান্স এবং পোস্ট-গেম মন্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন।
২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ইউনাইটেডের অলিম্পিয়াকোসের বিরুদ্ধে ২-০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হারের পর, কেনে ক্যারিকের খেলা এবং মিডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় লিসা ক্যারিক সামাজিক মাধ্যমে একটি তীব্র পোস্ট লিখে কেনের প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি তাকে “একজন ****” বলে সমালোচনা করেন। এই ঘটনা দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে পুনরায় আলোচনায় উঠে আসে, যখন কেনে আবার লিসা ক্যারিকের সম্ভাব্য টিম টক নিয়ে মন্তব্য করেন।
ক্যারিকের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট ও সংযত ছিল। তিনি জানিয়েছেন, “এটি আমাকে বিরক্ত করেনি,” এবং যুক্তি দেন যে কেনে, গ্যারি নেভিল এবং অন্যান্য প্রাক্তন ইউনাইটেড খেলোয়াড়দের মন্তব্য তার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। ক্যারিক জোর দিয়ে বলেন যে তিনি এই ধরনের মন্তব্যকে তার কাজের অংশ হিসেবে দেখেন এবং সেগুলোকে অগ্রাহ্য করে দলের উন্নয়নে মনোনিবেশ করছেন।
ক্যারিকের মতে, মিডিয়ায় এবং ফুটবলে বিভিন্ন মতামত থাকা স্বাভাবিক। তিনি স্বীকার করেন যে কিছু মতামত ইতিবাচক, আবার কিছু নেতিবাচক হতে পারে, তবে তিনি তা তার দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করেন না। “এটি বিশ্বের স্বাভাবিক প্রবাহ,” তিনি বলেন, “আমি অধিকাংশের উপর বেশি মনোযোগ দেব না।” তার মতে, কোচের মূল কাজ হল খেলোয়াড় ও স্টাফের সঙ্গে একসাথে ক্লাবের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া, আর ব্যক্তিগত মন্তব্য তা থেকে বিচ্ছিন্ন।
প্রাক্তন খেলোয়াড় গ্যারি নেভিলেরও সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়, তবে ক্যারিক জানান যে এই সব মন্তব্য তার কাজের উপর কোনো অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তিনি এবং তার স্টাফের মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে মাঠে কীভাবে জয় অর্জন করা যায়, তা নিয়ে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার কোচিং পদ্ধতির মূল নীতি, যেখানে তিনি দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে ব্যক্তিগত সমালোচনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
ইউনাইটেডের বর্তমান অবস্থান প্রিমিয়ার লিগে সপ্তম স্থান, এবং ডার্বি ম্যাচটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ হতে পারে। ক্যারিকের দ্বিতীয় ইন্টারিম মেয়াদে প্রথম ম্যাচ হওয়ায়, তার কৌশল ও দলগত মনোভাবের পরীক্ষা এই ডার্বিতে হবে। উভয় দলই পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রেখেছে, এবং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভক্তদের উচ্ছ্বাস প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ক্যারিকের শেষ মন্তব্যে তিনি পুনরায় জোর দেন যে তার প্রধান দায়িত্ব হল ক্লাবের সাফল্য নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “এটি আমাদের কাজ, আমাদের দায়িত্ব, এবং আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকা উচিত।” তিনি এবং তার স্টাফের লক্ষ্য হল দলের পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া, যাতে ইউনাইটেডের ঐতিহ্যবাহী গৌরব পুনরুদ্ধার করা যায়। ডার্বি ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, ক্যারিকের মনোভাব স্পষ্ট: তিনি দলের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবেন এবং ব্যক্তিগত মন্তব্যকে পেছনে রেখে কাজ চালিয়ে যাবেন।



