বিগ ব্যাশ লিগের এই সিজনে পাকিস্তানের তিনজন শীর্ষ খেলোয়াড়—বাবার আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং শাহীনের শাফিদি—অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের বদলে ধারাবাহিক ব্যর্থতা তাদের টি২০ ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। রিজওয়ান ও শাহীনের শাফিদি ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে কঠিন মুহূর্তের সম্মুখীন হয়েছিলেন, আর বাবার আজমের পালা শুক্রবারের ম্যাচে এলো।
সিডনি সিক্সার্স এবং সিডনি থান্ডার ১৮৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে মুখোমুখি হয়। উভয় দলই চেজে তীব্রতা বজায় রাখে, তবে প্রথম দশ ও অর্ধ ওভারে সিক্সার্সের ওপেনার বাবার আজম এবং স্টিভেন স্মিথ ১০.৫ ওভারে ১০৯ রান তৈরি করে। এই সময়ে বাবার ৩৭ ওভারে ৪৭ রান সংগ্রহ করে, আর স্মিথ ২৮ বলের ৫৮ রান দিয়ে দ্রুতগতিতে স্কোর বাড়িয়ে তুলেছে।
১১তম ওভারের শেষ বলের মুহূর্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে। স্মিথ, যিনি তখনই ২৮ বলের ৫৮ রান নিয়ে অটুট ছিলেন, বাবার তৈরি করা একক রান নেওয়ার সুযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি দ্রুতই পাওয়ার সার্জ—দশম ওভারের পর প্রয়োগযোগ্য দুই ওভারের ব্যাটিং পাওয়ারপ্লে, যেখানে কেবল দুইজন ফিল্ডারই ইনার সার্কেল থেকে বাইরে থাকতে পারেন—নির্বাচন করেন।
পাওয়ার সার্জে স্মিথ রায়ান হ্যাডলিকে ৩২ রান দিয়ে ধ্বংস করে, যা ববিএল ইতিহাসের সর্বাধিক ব্যয়বহুল ওভার হিসেবে রেকর্ড হয়। তিনি ধারাবাহিকভাবে চারটি ছয় এবং একটি চার মারেন, ফলে এক ওভারে ৩২ রান অর্জন করেন। এই আক্রমণাত্মক চালনা সিক্সার্সকে দ্রুত স্কোর বাড়াতে সহায়তা করে, আর বাবার আজমের জন্য সুযোগ কমে যায়।
বাবার আজমের শটের সুযোগ সীমিত থাকায় তিনি ১২তম ওভারের প্রথম বলেই আউট হন। আউট হওয়ার পর তিনি রেডি-তে ব্যাটকে বাউন্ডারি বিজ্ঞাপন প্যানেলে আঘাত করেন, যা তার হতাশা প্রকাশ করে। পুরো ইনিংসে তিনি ৩৯ বলে ৪৭ রান সংগ্রহ করেন, যা ১৪১ রান গড়ে ১৪১-রন ওপেনিং পার্টনারশিপের একটি অংশ ছিল।
এই ম্যাচে সিক্সার্সের ওপেনিং পার্টনারশিপ ১৪১ রান তৈরি করে, তবে বাবার আজমের একক রান না করা এবং দ্রুত আউট হওয়া তাকে এই সিজনের কঠিন সময়ের একটি উদাহরণ করে তুলেছে। পাকিস্তানি হেভিওয়েটদের জন্য এই অভিজ্ঞতা একটি শিক্ষা, যেখানে টিমের কৌশল এবং ব্যক্তিগত ফর্ম উভয়ই পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিগ ব্যাশ লিগের পরবর্তী রাউন্ডে সিক্সার্সের শিডিউল এখনও নির্ধারিত, তবে এই ম্যাচের ফলাফল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



