কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার নামের এক তরুণীর গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ধ্যা সময়ে ঘটিত গুলিবর্ষণটি মানব পাচারকারী গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। গুলির ফলে সুমাইয়া মৃত্যুবরণ করে, তার দেহ পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের হাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, “শুক্রবার সন্ধ্যাবেলা একটি তরুণীর লাশ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে” এবং লাশটি মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি যোগ করেন, লাশের ময়নাতদন্ত কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইলিয়াসের মতে, সুমাইয়া আক্তার নোয়াখালিয়া পাড়ার (ফার্ম) মো. ছিদ্দিকের কন্যা এবং তিনি ১৮ বছর বয়সী। ইলিয়াস জানান, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা সাগর পথে মালয়েশিয়া পাঠানোর পরিকল্পনা করে কিছু লোককে নোয়াখালিয়া পাড়ার পাহাড়ে জড়ো করেছিল। একই সময়ে, ওই পাহাড়ে অবস্থানরত স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ঐ স্থানে প্রবেশের চেষ্টা করে।
ইলিয়াসের বর্ণনা অনুযায়ী, মানব পাচারকারী গোষ্ঠী ও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। গুলির শব্দ শুনে পাহাড়ের পাদদেশে একটি ঘর থেকে সুমাইয়া উঁকি দেন এবং এক গুলি তার দেহে আঘাত করে। গুলির প্রভাবের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন সুমাইয়াকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক নওশাদ আলম কানন জানান, “সন্ধ্যার পর কিছু লোক ১৮ বছর বয়সের এক তরুণীকে হাসপাতালে আনেন, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তার মৃত্যু হয়ে যায়। তার দেহে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে”।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ওসি সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, লাশের ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, মানব পাচার ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম রোধে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে মানব পাচারকারী গোষ্ঠীর মালয়েশিয়া পাঠানোর পরিকল্পনা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আক্রমণ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে তথ্য শেয়ারিং ও সমন্বিত অপারেশন বাড়ানো হবে।
সুমাইয়া আক্তারের পরিবার এখন শোকাহত, তবে তারা ঘটনার দায়িত্বশীলদের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি জানিয়ে চলেছে। স্থানীয় সমাজও এই ধরনের সহিংসতা ও মানব পাচার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সতর্কতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।



