লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা পরিচালনা করা বিজ্ঞানীরা রকহেড পোচার (Bothragonus swanii) নামের একটি ছোট সমুদ্র মাছের মাথায় থাকা গভীর গর্তের কাজ সম্পর্কে নতুন ধারণা প্রকাশ করেছেন। আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত উপকূলীয় পানিতে বসবাসকারী এই মাছের মাথার উপরের অংশে একটি বড় গর্ত রয়েছে, যা মস্তিষ্কের আকারের সমান। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্তের নিচে থাকা বিশেষ ধরনের পাঁজরগুলো গতি করে গর্তের ভেতরের পৃষ্ঠকে আঘাত করে শব্দ তৈরি করতে পারে, যা সম্ভবত প্রজাতির মধ্যে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
রকহেড পোচার একটি বর্মধারী, টিয়ার‑ড্রপ আকৃতির মাছ, যা সমুদ্রের অল্প গভীর, পাথুরে তলায় বসে থাকে এবং পাথর বা স্পঞ্জের মতো রঙে রঙিন হয়ে থাকে। এভাবে তারা শিকারী থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং খাবার অনুসন্ধান করে। পূর্বে বিজ্ঞানীরা গর্তের উপস্থিতি লক্ষ্য করলেও তার কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়নি; কেউ বলত এটি শব্দ উৎপাদনের যন্ত্র, আবার কেউ ভাবত এটি স্যাটেলাইট ডিশের মতো কোনো সিগন্যাল সংগ্রহের অংশ।
গবেষক দল সংরক্ষিত নমুনার উপর উচ্চ শক্তির এক্স‑রে স্ক্যান চালিয়ে হাজার হাজার ছবি একত্রিত করে ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করেছে। এই মডেল থেকে গর্তের গঠন, পাঁজরের ঘনত্ব এবং পেশীর সংযুক্তি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। গর্তের নিচের পাঁজরগুলো সাধারণ মাছের পাঁজরের তুলনায় চওড়া, চটকদার এবং তুলনামূলকভাবে ভারী, যা দ্রুত নড়াচড়া করতে সক্ষম।
ড্যানিয়েল গেলডফ, যিনি লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কার্যকরী রূপবিজ্ঞান (functional morphology) নিয়ে কাজ করেন, উল্লেখ করেন যে এই পাঁজরগুলো গর্তের তলকে আঘাত করে ড্রামস্টিকের মতো কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো উদাহরণ আগে দেখা যায়নি; এটি সম্ভবত প্রজাতির মধ্যে শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগের একটি নতুন পদ্ধতি।” যদিও সরাসরি শব্দ রেকর্ড করা হয়নি, তবে পাঁজরের গঠন ও পেশীর শক্তি থেকে এই অনুমান করা যায়।
গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে রকহেড পোচার মাছের মাথার গর্ত কেবল শারীরিক গঠন নয়, বরং একটি কার্যকরী অঙ্গ হতে পারে। সমুদ্রের নিচের অন্ধকার পরিবেশে শব্দের মাধ্যমে সংকেত পাঠানো ও গ্রহণ করা সম্ভব, যা শিকারী এড়াতে বা সঙ্গীকে খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে। এই ধরনের যোগাযোগ পদ্ধতি অন্যান্য মাছের মধ্যে নথিভুক্ত হয়নি, ফলে এটি সমুদ্রজীবের বৈচিত্র্য ও অভিযোজনের নতুন দিক উন্মোচন করে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ে এই আবিষ্কারকে সমুদ্রের অপ্রকাশিত জীববৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও গবেষণা করে গর্তের সুনির্দিষ্ট শব্দের বৈশিষ্ট্য ও তার প্রেরণার পদ্ধতি নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে। এ ধরনের তথ্য সামুদ্রিক পরিবেশের সংরক্ষণ ও মাছের আচরণবিজ্ঞান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনি কি কখনও সমুদ্রের নিচের অদ্ভুত শব্দ শুনেছেন? যদি হ্যাঁ, হয়তো সেগুলোই রকহেড পোচার মাছের নিজস্ব ড্রাম‑সদৃশ সিগন্যাল হতে পারে।



