28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকক্সবাজারের বাহারছড়ায় মানব পাচার ও সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধে তরুণীর মৃত্যু

কক্সবাজারের বাহারছড়ায় মানব পাচার ও সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধে তরুণীর মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা, বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীয়া পাড়ার পাহাড়ের পাদদেশে আজ সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছয়টায় এক তরুণী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ১৮ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার, স্থানীয় বাসিন্দা মো. ছিদ্দিকের মেয়ে, গুলির শিকার হয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের মতে, ওই সময় পাহাড়ে মানব পাচার চক্রের সদস্য ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ স্পিকার ও অতিরিক্ত ডিএসবি অলক বিশ্বাসের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র তীরের বাহারছড়া এলাকা সম্প্রতি মানব পাচারকারীদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে।

সন্ধ্যাবেলায় মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পাহাড়ে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলির গর্জন শোনা যায়। গুলির শব্দে পার্শ্ববর্তী বাড়ি-বাড়ি থেকে মানুষ বেরিয়ে পালাতে থাকে, এ সময় সুমাইয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। তার দেহে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়।

সুমাইয়া আক্তার নোয়াখালীয়া পাড়ার বাসিন্দা, তার পিতা মো. ছিদ্দিকের কন্যা। পরিবার জানায়, তিনি কলেজে পড়াশোনা করছিলেন এবং কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে তিনি কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিলেন না বলে পরিবার দাবি করে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নওশাদ আলম জানান, সুমাইয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তার প্রাণ শেষ হয়ে যায়। চিকিৎসক দল তার দেহে দুটি গুলির চিহ্ন শনাক্ত করে, তৎক্ষণাৎ মৃত ঘোষণা করে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের ডিএসবি অলক বিশ্বাস গুলিবিদ্ধের ঘটনাকে নিশ্চিত করে এবং জানান, সন্ত্রাসী ও মানব পাচারকারীদের গ্রেফতার করার জন্য পাহাড়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইলিয়াছের মতে, মানব পাচার চক্রের সদস্যরা সাগরপথে মালয়েশিয়া গন্তব্যে মানুষকে পাচার করার জন্য পাহাড়ের গোপন আস্তানায় একত্রিত করে। এই গোষ্ঠীর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের ফলে পাহাড়ে থাকা সন্ত্রাসীরা গুলিবিদ্ধের সময় গুলির গর্জন শোনার পর দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধের ঝড় তুলেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ তরুণীর দেহকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

গুলিবিদ্ধের ঘটনায় স্থানীয় জনগণ শোক প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা এখনো পুরো গোষ্ঠীর কাঠামো ও দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনাটি মানব পাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments